শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৪:০১ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
মঙ্গলবার, ০৪ জুলাই ২০১৭ ০৬:৫৮:২৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নেত্রকোনায় ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু ধর্ষিত, আতঙ্ক

নেত্রকোনা: নেত্রকোনা জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ব্যবধানে নেত্রকোনা সদর আটপাড়া মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দা উপজেলায় পৃথক পৃথক স্থানে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ায় এলাকাবাসী, ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার রকিবুলের বখাটে ছেলে ইমন ১৩ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ধর্ষক ইমনকে (১৬) হাতে নাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আহত শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষককে আটক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামের মোঃ সঞ্জু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (২০) গত রোববার রাতে তারই প্রতিবেশী ১৩ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রমিজুল হক জানান, ছাত্রীটির বাবা ও মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল উদ্দিন রাতে তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে থাকা ৭০ বছর বয়সী দাদা ও ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইসহ ছাত্রীটিকে কৌশলে খাজা’র (মিষ্টি জাতীয় খাদ্য) সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই অচেতন হয়ে পড়লে জামাল ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ভিকটিমকে উদ্ধার করে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, সোমবার বিকেল চারটার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরে করা হয়েছে। অপরদিকে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দেওথান এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী এক লম্পট কর্তৃক আট বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জের দেওথান এলাকার আট বছরের শিশু মাইলোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বাড়িতে রেখে মা মোহনগঞ্জ যান। এ সুযোগে প্রতিবেশী মহব্বত আলীর ছেলে লিমন মিয়া (১৮) ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির মা বাড়িতে এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ধর্ষককে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী লেংগুড়া ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে ৫ সন্তানের জনক কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৩) ধর্ষিত হয়েছে। পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিগাতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রোববার রাতে তার নিজ বসত ঘরে দাদীর সাথে ঘুমাচ্ছিল। এসময় প্রতিবেশী মৃত আবেদ আলীর ছেলে ৫ সন্তানের জনক মোঃ আব্দুস সালাম সু-কৌশলে বসত ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার পিতা ওই রাতেই কলমাকান্দা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সালামকে আটক করে। কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় ছালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কহিনূর বেগম বলেন, সমাজে এক ধরনের অস্থিরতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা আর অপরাধ করেও আইনের ফাঁক ফোকরে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে একের পর এক নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। লোভ লালসা আর ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারতো আর এ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে যদি স্বপ্ন সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যেতো তা হলে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশে কমে আসতো। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, আপরাধী যেই হোক অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। ইতিমধ্যেই তিনজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর ধর্ষককে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর