রোববার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর, ১৪৩৯ | ১০:৫৪ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ০৫:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

অষ্টাদশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আলমগীর মহিউদ্দিন


প্যারিস সময় সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত ইউনেস্কো হেড অফিসে অষ্টাদশ মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ‘বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ’ বিষয়ের এক আলোচনা সভার আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ এবং এ দিবস বিশ্বের সব দেশকে উদযাপনের জন্য অনুরোধ করা হলো বলে ইউনেস্কো এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। 
উল্লেখ্য ইউনেস্কো ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। ইউনেস্কো ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে দিবসটি উদযাপনের কথা প্রথম ঘোষণা করে। উইকিপিডিয়া অনুসারে এ দিবসটি প্রতিপালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ‘পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে দাবির সপক্ষে মিছিলের ওপর সরকারি বাহিনীর গুলি বর্ষণের ফলে নিহতদের সম্মানে এবং সেই ঘটনা স্মরণের উদ্দেশ্যে।’ এটাও উল্লেখ করা হয় জাতিসঙ্ঘ ১৬ মে ২০০৯ সালে এক অধিবেশনে একটি প্রস্তাবে সব সদস্যরাষ্ট্রকে বিশ্বের সব ভাষা তত্ত্বাবধায়ন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দিবসটি প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়। জাতিসঙ্ঘ ২০০৮ সালকে বিশ্বে বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা এবং ‘বহুর মাঝে ঐক্য’ সৃষ্টির বছর বলে ঘোষণা দেয়। অবশ্য এর কৃতিত্ব দেয়া হয় এক বাঙালিকে। ভ্যানকুভারে (কানাডা) বসবাসরত বাঙালি রফিকুল ইসলাম ৯ জানুয়ারি ১৯৯৮তে জাতিসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানকে এক চিঠিতে বিশ্বের ভাষাগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রস্তাব দেন। তার পরামর্শ গ্রহণ করে কফি আনান জাতিসঙ্ঘে এই প্রস্তাব আনেন। রফিকুল ইসলাম ঢাকায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণে চারজন ছাত্র নিহতের ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার পরামর্শ দেন। রফিক বাংলা ভাষার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জাতিসঙ্ঘ ২০০০ সাল থেকে এক একটি বিষয় স্থির করে দিবসটি পালন করে আসছে। যেমন ২০০০ সালের বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্বোধন; ২০০১-দ্বিতীয় বার্ষিকী; ২০০২ ভাষার বহুমাত্রিকতা এবং ৩০০০ হারিয়ে যাওয়া ভাষার উন্নয়ন এবং এ বছরের সেøাগান ছিল ‘ভাষার ছায়াপথে প্রতিটি শব্দই নক্ষত্র’ (ইন দ্য গ্যালাক্সি অব ল্যাংগুয়েজেস, এভরি ওয়ার্ড ইজ এ স্টার); ২০০৩-চতুর্থ বার্ষিকী; ২০০৪- শিশু শিক্ষার প্রধান উপাদান ভাষা এবং ইউনেস্কো এবার বিশ্বের শিশুদের জন্য শিক্ষার উপকরণ হিসেবে অনুশীলন খাতা প্রকাশ করে; ২০০৫ ব্রেইল ও সাইন ল্যাংগুয়েজ শিক্ষা; ২০০৬-ভাষা ও সাইবার স্পেস; ২০০৭-বাংলা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা; ২০০৮-আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস; ২০০৯-মাতৃভাষার দশম আন্তর্জাতিক দিবস; ২০১০ সংস্কৃতির মিলন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পুনঃস্থাপন; ২০১১-তথ্য প্রযুক্ত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা; ২০১২-মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা এবং পরিপূর্ণতা; ২০১৩-মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশ; ২০১৪-বিশ্ব নাগরিকত্বে স্থানীয় ভাষা এবং বিজ্ঞানে জোর দেয়া; ২০১৫-শিক্ষার মাধ্যমে পরিপূর্ণতা; ২০১৬-বৈশিষ্ট্যমূলক শিক্ষা; শিক্ষার মাধ্যম এবং ফলাফল। ২০১৭ সালের বিষয়বস্তু হলো ‘বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ভবিষ্যৎ’। এটা গত বছরের ইউনেস্কো প্রণীত শিক্ষার ওপর বিশ্ব পরীক্ষণ রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।
এটা সত্য ভাষার জন্য সবার আকুতির সৃষ্টি ১৯৫২ সালে হয়নি। ভাষাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে ক্ষমতাবানেরা আবহমানকাল থেকে। তারা এই ভাষাকে তাদের মতো করে সৃষ্টি করে অন্যদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছে। কারণ ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতাবানেরা যেহেতু সব ভাষা জানত না তাই অন্যরা অন্য ভাষা বা উপভাষা দিয়ে কথা বলুক তা চাইত না। এ জন্যই বিধিনিষেধ সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে বাঙালিদের কৃতিত্ব তারা ভাষার জন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এবং বিশ্বে তা সবার দৃষ্টিতে আসে। সে জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সৃষ্টি। 
অনেকেই প্রশ্ন করেন, শব্দটি ‘মাতৃভাষা’ কেন? পিতৃভাষা নয় কেন? অবশ্য এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং তার জবাব এখন সর্বজনস্বীকৃত। মানুষ তার ভাষা মায়ের কাছ থেকেই প্রথম শেখে এবং মা শব্দটি সহজাত। এ কারণেই সব ভাষাতেই এটা মাতৃভাষা বলা হয়। যেমন স্পেনে বলে লেংগুয়া ম্যাটারনা, ইটালিতে লিংগুয়া মাদ্রে, ফ্রান্সে লং মাতারনেল, সংস্কৃতে মাতৃভাষা, তামিলে থাইমজি ও ইংরেজিতে বলা হয় মাদার টাং। আর মাদার ল্যাংগুয়েজ বলতে সাধারণত বোঝানো হয় পূর্বপুরুষদের ভাষা, যা তাদের ঐতিহ্য বহন করে।
ইন্টারন্যাশনাল বাইলিংগুয়াল মাগ্যাজিন একবার এক মজার সার্ভে করে। উদ্দেশ্য শিশু যে শব্দগুলো ব্যবহার করে সেখানে পিতা বা মাতার প্রভাব কী? তারা পিতা এবং মাতাকে বিশেষ কিছু ক্রিয়া-বিশেষ্যসম্পর্কিত শব্দ তাদের দুই থেকে তিন বছরের শিশুর সামনে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। শিশুদের বক্তব্যের ওপরও নজর রাখতে থাকেন। দেখা গেল শিশু দু’জনের শব্দগুলোই নিল; কিন্তু শতকরা ৭৫ ভাগ ক্ষেত্রে মায়ের শব্দগুলোই ব্যবহার করে। এতে প্রমাণ হয় মানুষের ভাষার ব্যবহার এবং নির্মাণে মায়ের প্রভাব কত ব্যাপক।
রফিকুল ইসলামের প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘের দৃষ্টি আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিল আফ্রিকায় ভাষা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছিল। যেমন ল্যাতিন ও দক্ষিণ আমেরিকায়। সবার দাবি তাদের ভাষাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এর পেছনে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি। তা হলো তাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি এবং ভাষা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভাষাকে কেড়ে নিলে তাদের বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিকেই আঘাত করা হয়। আসলে এই বক্তব্য অলিখিতভাবে সাম্রাজ্যবাদীরাও বিশ্বাস করে। তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে নতুন ক্ষমতার বলয়ে নিজেদের ভাষা চাপিয়ে দিয়েছে। ইংরেজি তার প্রকৃষ্ট নমুনা। তবে এই ভাষা চাপিয়ে দেয়া তখনই সাফল্য লাভ করে যদি সে এলাকার ভাষা দুর্বল বা তাদের লিখিতভাষা না হয়। এর উদাহরণ উত্তর আফ্রিকার ক’টি দেশ। ফরাসি সাম্রাজ্যবাদ ছিল ভাষা চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সবার অগ্রগণ্য। ইংরেজি সাম্রাজ্যবাদ সেখানে খানিকটা মিলেমিশে থাকার পক্ষে। আফ্রিকায় যেখানে ফরাসি সাম্রাজ্যবাদ ছিল সেসব দেশের মাতৃভাষা এখন ফরাসি। সেসব দেশের স্থানীয় ভাষাগুলো হারিয়ে গেছে। এসব বিষয় সামনে রেখে জাতিসঙ্ঘ দিবসটি বেছে নেয়। এতে এখন বিশ্বে প্রচলিত ৬০০০ ভাষাকে সম্মান জানানো হলো মনে করে। তারা এর পর থেকে শিক্ষাকে কেমনভাবে কোন ভাষায় দেয়া হচ্ছে তার ওপর নজর রাখতে শুরু করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে তারা কম্বোডিয়াকে এশিয়া-প্যাসিফিক এলাকার ‘অনুকরণযোগ্য আদর্শ’ (রোল মডেল) বলে ঘোষণা করে। কম্বোডিয়া দু’টি ভাষায় তাদের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল। তাদের খেমার ভাষাটি দেশের ৯৬.৩ ভাগ লোক ব্যবহার করে। তবে সে দেশে আরো ২০টি ভাষায় লোকেরা কথা বলে। সে ভাষাগুলো সবই কথ্য, কোনোটিই লিখিত নয়। এদের মাঝে পাঁচটি সম্প্রদায় প্রধান যারা উত্তর-পূর্বাংশে বাস করে। কম্বোডিয়া তাদের জন্য লিখিত ভাষার সৃষ্টি করে। কম্বোডিয়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি আন লেমেয়াস্ত্রে বলেছেন, এ কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষার প্রসারের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। এ গোষ্ঠীগুলো হচ্ছে রাটানিকিরি, মন্ডুলকিরি, স্টাংট্রেং, প্রিয়াবিহার ও ক্রাতি। এখন এরা এগিয়ে যাচ্ছে।
অধ্যাপক কিয়োকাজু ওকিতা (Kiyokazu Okita) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছেন, ‘জাতীয়তা এবং ঐতিহ্য নিবিড়ভাবে জড়িত। তবে সাবধান থাকতে হবে মাতৃভাষা নিয়ে গৌরব এবং গর্ব যেন তাকে সঙ্কীর্ণমনা না করে।’ অধ্যাপক ওকিতা কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ে হাকুবা সেন্টারের প্রধান এবং হিন্দু থিউলজির ওপর বহুলপঠিত তার একটি বই আছে। বাংলা ভাষায় কতগুলো ভাষার শব্দ আছে তার এক চমৎকার বর্ণনা দেন এমনভাবে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বন্ধু সীমান্তের (সংস্কৃত) কাছে যাবার জন্য দাঁড়িয়েছি। এই মামা, যাবেন (বাংলা) এক অটো (ইংরেজি) রিকশা (জাপানিজ) চালক জিজ্ঞেস করল।... চলার পথে চালক বলল জ্যাম (ইংরাজি) খুব খারাব (ফার্সি)। রিকশায় ওঠার সময়ে পেছনে লেখা ‘আল্লাহ (আরবি) সর্বশক্তিমান (সংস্কৃত)। পৌঁছার পর বললাম, ধন্যবাদ (সংস্কৃত) দেখা হবে (বাংলা)। সে বলল, খোদা হাফিজ (ফারসি ও আরবি)। ওকিতা লিখেছেন, বাংলা ভাষায় এমন বহুভাষাভিত্তিক শব্দের সমাহার কোনো ভাষায় নেই। আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের প্রেরণা এ ভাষা থেকে আসবে, তাতে তিনি বিস্মিত হননি।
এটা সবার জানা গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া বিশ্বের সব ভাষার শব্দগুলো বাংলায় লেখা এবং উচ্চারণ সম্ভব। এক ঘটনায় এটা জানলাম। প্যারিসে ফরাসি ভাষা শেখার এক ক্লাসে একজন মহিলা শিক্ষক আমাদের ফ্রেঞ্চ উচ্চারণ শেখাচ্ছিলেন। আমরা ১২ দেশের শিক্ষার্থী ছোট ছোট কুঠুরীতে বসে। শিক্ষক এয়ারফোনের মাধ্যমে একটি শব্দ উচ্চারণ করছিলেন এবং আমরা একে একে তা পুনরায় বলছিলাম। যেমন, শেষে আমার নম্বর উল্লেখ করে জানতে চাইলেন, আমার মাতৃভাষা কী এবং সে ভাষায় কটি অক্ষর। যখন বললাম, আমাদের ভাষায় ৫২টি অক্ষর এবং তার সাথে উচ্চারণের স্থানও বলা আছে। তখন তিনি বললেন, ‘ওহ, এ জন্যই’। প্রশ্ন করলাম, ‘ম্যাডাম, বিষয়টা কী?’ তিনি বললেন, তোমাদের ১২ জনের মধ্যে কেবল তুমিই একবার শুনে শব্দটি শুদ্ধ উচ্চারণ করেছ। অন্যরা তা পারেনি। এর কারণ যে ভাষার অক্ষরসংখ্যা বেশি সেখানে নানা উচ্চারণ সহজেই শুদ্ধভাবে করা সম্ভব। এ কথা বলে তিনি ইংরেজি, ফরাসি, আরবির কয়েকটি উদাহরণ দিলেন। বুঝলাম, আমাদের বাংলা ভাষার উচ্চারণক্ষমতা কত বিশাল।
আজ এই ভাষামাসে তাই আমাদের দায়িত্ব এসে পড়ে কিভাবে এ ভাষাকে শুধু ব্যবহারের মাঝেই নয় বরং এর ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। সাম্রাজ্যবাদের মাঝ দিয়ে ইংরেজি-ফরাসির বিস্তৃতি ঘটলেও এরা স্থায়িত্ব পেয়েছে এ জন্য যে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে ধারণ করেছে এবং অন্যদের তা আহরণ করতে এই ভাষাগুলোকে আয়ত্ত করতে বাধ্য করেছে। যেহেতু বাংলা এমন বিষয় সহজেই আয়ত্ত করতে পারে নিজের স্বকীয়তার কারণে, একটু সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে এর স্থায়ী স্থান বিশ্বের মাঝে করা সম্ভব। বাংলা এর মাঝে জাতিসঙ্ঘের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এখন এই স্বীকৃতির স্থায়ী অবয়ব দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

আরো খবর