শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪, ২ সাবান, ১৪৩৮ | ০৯:২৭ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০১৭ ০৬:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

কোরআনের আলোকে নারীর পর্দা ও সাজসজ্জা

 

 

 

ঢাকা: মহান আল্লাহ্ সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। মানব সমাজে এ পরম আকর্ষণের প্রতি ইসলাম বিধি-নিষেধ আরোপ করে সৌন্দর্য চর্চার একটি মাপকাঠি রচনা করে দেয় যাতে ভারসাম্যপূর্ণভাবে তার চর্চা হয় ও অশ্লীলতার কারণ না হয়ে যায়। 

 

তাই প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর কর্তব্য হলো, সৌন্দর্য চর্চাকে স্বীয় স্বামী ও মহিলা অঙ্গন পর্যন্ত সীমিত রাখা। মুহরিম ব্যক্তিদের পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত করা দোষণীয় নয়। এছাড়া অন্যদের সামনে সাজ-গোজের কোন মূল্য নেই।

 

স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জা গ্রহণ:

 

স্বামীর উদ্দেশ্য সাজসজ্জা গ্রহণ করা একটি সওয়াবের কাজ। স্বামীর উদ্দেশ্য সাজসজ্জায় থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি শরীয়তে নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে নারীদের অবস্থা হলো, স্বামীর সামনে তারা নোংরা অপরিছন্ন ও ময়লা কাপড়-চোপড় পরে থাকে। আর বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সময় আপাদমস্তক সুসজ্জিত হয়ে যায়। কেউ স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জা গ্রহণ করলে সমালোচনা শুরু হয়ে যায় যে, মেয়েটির লাজ-লজ্জা বলতে কিছুই নেই- স্বামীর সামনে সে কেমন রূপচর্চা করছে!

 

পরিতাপের বিষয়! যেখানে সাজসজ্জা গ্রহণ করা উচিত সেখানে তা নিন্দনীয়। আর যেখানে সাজসজ্জা গ্রহণ করা উচিত নয় সেখানে তা প্রশংসনীয়। স্বামী যখন স্ত্রীর সাজ-সজ্জা কামনা করে তখন তা গ্রহণ না করার কি যুক্তি থাকতে পারে?

 

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মহিলারা স্বগৃহে তো বাদী-দাসী ও গৃহপরিচালিকার ন্যায় অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন থাকে। আর যখন কোন বিশেষ অতিথির আগমন ঘটে তখন বিভিন্ন সাজ-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ নববধূ বনে যায়।

 

মর্যাদার পোশাক পর্দা:

ইসলামে পোশাকের মডেল ‘তাক্ওয়ার পোশাক’। যে পোশাক সতর ঢাকার সাথে সাথে সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে সীমা ছাড়িয়ে গর্ব ও অহঙ্কারে পরিণত না হয়, শালীনতা বিকাশে কোনো বাধার সৃষ্টি না করে, তা-ই তাকওয়ার পোশাক।

 

পুরুষের পোশাকের ক্ষেত্রে শালীন ও মার্জিত পোশাকই তাকওয়ার পোশাক। আল-কুরআনের সূরা আন নূর ও সূরা আহজাবে বলা হয়েছে, মহিলারা যেন জাহেলি যুগের মেয়েদের মতো বাইরে নিজেদের রূপ-সৌন্দর্যের প্রদর্শন করে না বেড়ায়। 

 

তারা ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় যেন চাদর দিয়ে নিজেদের দেহকে আবৃত করে নেয়। তারা যেন তাদের আচল দিয়ে বুক ঢেকে রাখে। ঝঙ্কারদায়ক অলঙ্কারাদি পরিধান করে ঘরের বাইরে না যায়। ঘরের ভেতরেও যেন তারা মাহরাম ও গায়ের মাহরাম পুরুষদের মধ্যে পার্থক্য করে চলে।

 

এক্ষেত্রে নারীদের ঘরে আটকিয়ে রাখার কথা বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে তাদের সৌন্দর্যটা আবৃত করে রাখার কথা।

 

যে নারী অনিয়ন্ত্রিত নগ্নজীবন যাপন করে, সে শুধু নিজের সর্বনাশই করে না, তার চাল-চলনের প্রভাব তার ভবিষ্যৎ বংশধরের ওপরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই পড়ে। তেমনি পুরুষের বেলায়ও তা প্রযোজ্য।

 

...‘যে ব্যক্তি কোনো অপরিচিত নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত লোহা ঢেলে দেয়া হবে।’ (ফাতহুল কাদির)।

 

হঠাৎ যদি কারো ওপরে নজর পড়ে যায় তাহলে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘হঠাৎ দৃষ্টি পড়লে ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু পুনরায় ভালোভাবে দেখার উদ্দেশ্যে দৃষ্টি দেয়া ক্ষমার যোগ্য নয়’ (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)

 

তাক্ওয়ার পোশাক যুক্তিসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত, তা কখনো প্রগতির অন্তরায় নয়। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ শৃঙ্খলা, সভ্যতা ও আবরু রক্ষা করে চলবে, এটাই ধর্মীয় বিধান। পর্দা বা তাও্কয়ার পোশাক নৈতিক চরিত্রের হেফাজত ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করে। সামাজিক অশান্তি রোধ করে। পারিবারিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত ও সুদৃঢ় করে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সোনালী সমাজ বিনির্মাণে মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর