রোববার, ২৫ জুন ২০১৭, ১১ আষাঢ় ১৪২৪, ৩০ রমজান, ১৪৩৮ | ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭ ১২:০০:০৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বঙ্গবন্ধুর মূর্তি সরানোর দাবিতে কলকাতায় আন্দোলন

 

 

কলকাতা: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে কলকাতার মাওলানা আজাদ কলেজের বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি সরানোর দাবি করল ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’।

 

মধ্য কলকাতার রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের মাওলানা আজাদ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের অন্তিম লগ্নে বেকার হোস্টেলের ২৩ এবং ২৪ নম্বর কক্ষ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত কক্ষ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। ওই কক্ষের প্রবেশ পথে শ্বেতপাথরের মার্বেল দিয়ে তৈরি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি বঙ্গবন্ধুর ওই ভাস্কর্য উন্মোচন করেন।

শনিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মূর্তি বাসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ভারতে কোনো মুসলিম প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের মূর্তি স্থাপন বিরল ঘটনা। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি সরিয়ে দেয়া হোক।’ 

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসবেন, তার আগে তিনি যাতে বেকার হোস্টেল থেকে তার বাবার মূর্তি সরানোর ব্যবস্থা করেন সেই দাবি জানাচ্ছি।’ 

 

বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে স্মারকলিপি দেয়ার কথাও জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। 

 

আরো বলা হয়, মাওলানা আজাদ কলেজ থেকে বহু মুসলিম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিরা পড়ালেখা করেছেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কেন, কোনো বন্ধুর মূর্তিই মেনে নেব না। 

 

সম্পাদক মুহম্মদ কামরুজ্জামান আরো বলেন, ‘আমরা আশা করব শেখ হাসিনা কোনো সংঘাতে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের ভাবাবেগকে সম্মান দেবেন। প্রয়োজনে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি কলকাতার অন্য কোনো স্থানে বসান। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। মুসলিম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূর্তি আমরা মেনে নেব না।

 

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে তো নেপালের ছাত্র ছাত্রীরাও এসে পড়াশোনা করে। তারা যদি নেপালের মুখ্যমন্ত্রী বা কিছু হয়, তাদের ছবি কি রাজ্য সরকারকে এখানে লাগাতে হবে?’ 

 

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে ওখানে তো ছাত্র ছাত্রীরা নামাজ পড়ে, ওখানে মূর্তি রাখার কোনো প্রয়োজনই নেই। উনি তো বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন, ভারতের বাসিন্দা নন উনি। আগে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমবাংলা এক ছিল তখন একটা ব্যাপার ছিল। মূর্তি এখানে থাকবে কেন? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আছে বাংলাদেশে যা খুশি করুক। এখানে রাখার তো কোনো প্রয়োজন নেই।’ 

 

মাওলানা কলেজের বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি না সরানো হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কাসেম সিদ্দিকী।

 

বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শেখ ওয়াসিম আক্রমের মতে, ‘মুজিবুর রহমান বাংলার গর্ব। ধর্মের নামে এই ভাবে তাকে অপমান করা উচিত নয়।’ ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টি ভাবার কথা বলেছেন কাশেম বিন জোহারাবি। 

 

মূর্তি নিয়ে শাফিকূল বাবলুর বক্তব্য, মালদহ জেলার একাধিক জায়গায় গণি খানের মূর্তি রয়েছে। সেই বিষয়ে মুজিবের মূর্তি বিরোধীরা কী বলবেন?

 

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশিষ্ট উর্দু কবি মির্জা গালিবের মূর্তি রয়েছে। কলকাতার কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি বিতর্কে প্রশ্ন উঠছে, প্রখ্যাত জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দণ্ডায়মান কবি মির্জা গালিবের মূর্তিও কী তাহলে সরিয়ে ফেলতে হবে?

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর