রোববার, ২৩ জুলাই ২০১৭, ৮ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৫:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মানুষ হত্যাকারী গো–রক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত

ভারতের বিভিন্ন স্থানে গো–রক্ষার নামে মানুষ হত্যার ঘটনায় জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে রাজ্যগুলোর অভিযান চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে এক সর্বদলীয় বৈঠকে বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলোর। পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর আগের দিন প্রথাগত এ গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার সাংবাদিকদের আলোচিত বিষয় সম্পর্কে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, গো-রক্ষার নামে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যে পরামর্শ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে বলেন, দেশে গো রক্ষার আইন আছে। কিন্তু গো রক্ষার নামে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে অপরাধ করলে তা বরদাশত করা হবে না। কিছু রাজনৈতিক দল গো রক্ষাকে একটা সাম্প্রদায়িক বিষয় হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। এটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। গো রক্ষার বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে মোদি বলেন, এতে দেশের কোনো উপকার হবে না। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ করতে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনে সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যুগান্তকারী পণ্য-পরিষেবা কর (জিএসটি) নিয়ে বিরোধী ১৮-দলীয় জোটের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী গতকালের বৈঠকে জিএসটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। ভারতজুড়ে দুই সপ্তাহ আগে জিএসটি চালু হয়। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে চীনের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা, কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতি এবং গো রক্ষার নামে পিটিয়ে মানুষ হত্যা। কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, আলোচনার সব পথ সরকার বন্ধ করে রেখেছে। কাশ্মীরে রাজনৈতিকভাবে দমবন্ধ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দলটি বিজেপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে। গো রক্ষার নামে মানুষ হত্যা বরদাশত করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি আগেও ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দৃশ্যত তাতে হামলা থামছে না। ভারতে গোমাংস নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ জুন হরিয়ানায় জুনেইদ খান নামের এক মুসলিম কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গের ব্যাগে গোমাংস রয়েছে—এমন সন্দেহে একদল দুর্বৃত্ত চলন্ত ট্রেনে জুনেইদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ হত্যার রেশ না কাটতেই উত্তর প্রদেশে গত বুধবার ট্রেনের ভেতরে এক মুসলিম পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তরা চড়াও হয়। তাদের লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা ‘ওরা গরু খায়’ বলে চিৎকার করে। এদিকে মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে গত বুধবার গো রক্ষক বাহিনীর পিটুনির শিকার বিজেপি কর্মী সালিম শাহর কাছে গোমাংসই ছিল বলে পুলিশ গতকাল জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা পিটিআই বলেছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, সালিমের কাছে গরুর মাংস ছিল। তবে সালিম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর ব্যাগে খাসির মাংস ছিল। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর