শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৪:০২ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৫:০৪:১৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

ভারতকে ফের হুমকি, জয়শঙ্করের বেইজিং সফর অনিশ্চিত

ভারত-চীন আলোচনা বসতেও তেমন আগ্রহী নয়। ফলে ডোকা লা সঙ্কট সহজেই কাটছে না। সঙ্কট মিটাতে আগামী সপ্তাহেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের। এর আগেই ফের ডোকা লা ইস্যুতে ভারতকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিল চীন। এতে পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের বেইজিং সফর অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চীনে সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ডোকা লা বিতর্কে আলোচনার কোনো জায়গা নেই। ভারত ডোকা লা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে সেখানে। কলকাতার প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ডোকা লা বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা সংবাদপত্রে নানাভাবে ভারতকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ দিক থেকে সবার আগে ছিল চীনা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। এবার একেবারে সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার মাধ্যমেও ভারতকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেওয়া শুরু হল। শনিবার চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে,‘ডোকা লা এলাকা থেকে ভারতকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে চীন বার বার আর্জি জানিয়েছে। কিন্তু, ভারত এই আর্জি মানতে অস্বীকার করেছে।’ সিনহুয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে, চীনের আবেদন সম্পর্কে চোখ বুজে থাকা মাসাধিক কালের অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। এর ফলে ভারত নিজেকেই আরো বিড়ম্বনায় ফেলতে চলেছে বলেও দাবি চীনা সংবাদ সংস্থার। ডোকা লা নিয়ে রোজ একটু একটু করে সুর চড়াচ্ছে চীন। সেখান থেকে ভারত সেনা না সরালে চীন সামরিক পদক্ষেপ করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় হুমকির মুখে অবিচলই থেকেছে নয়াদিল্লি। ২০১২ সালে চীন এবং ভারতের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, চীন তার শর্ত ভেঙেছে বলে অভিযোগ নয়াদিল্লির। ভারত, চীন এবং অন্য কোনো দেশের সীমান্ত যেখানে মিলেছে, সেই সব এলাকায় সীমান্ত সংক্রান্ত বিতর্কের মীমাংসা তিনটি দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই করতে হবে, এমনই শর্ত ছিল সেই চুক্তির। কিন্তু ভারত-ভুটান-চিন সীমান্তবর্তী এলাকা ডোকা লা-য় একতরফা ভাবে বেইজিং রাস্তা তৈরি করা শুরু করেছিল বলে অভিযোগ। চীন যে এলাকায় রাস্তা তৈরি করতে চাইছিল, তা ভুটানের এলাকা বলে থিম্পুর দাবি। দিল্লিও সেই দাবিকেই সমর্থন করছে। ডোকা লা-য় চিনের এই সড়ক নির্মাণ কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। ভারতীয় সেনা গত ১৬ জুন চীনের রাস্তা নির্মাণ আটকে দেয়। তারপর থেকেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি সদিচ্ছা দেখিয়েছে নয়াদিল্লি। বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালাতে জয়শঙ্করের আগামী সপ্তাহেই চীনে যাওয়ার কথা। তার আগেই চীনা সংবাদ সংস্থার এই হুমকি নয়াদিল্লি কীভাবে দেখবে, সে দিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের। তবে এই সঙ্কট যে সহজেই কাটছে না তা দুপক্ষের অনড় অবস্থান থেকেই সহজেই অনুমেয়।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর