রোববার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর, ১৪৩৯ | ১০:৪৯ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ০৫:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণা

 

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে সুপ্রিমকোর্টের সামনে স্থাপিত মূর্তির বিরোধিতাকারী ওলামাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করব। এছাড়া আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।' বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাওরায়ে হাদিস সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিচ্ছি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবির সমমান প্রদান করা হল।’ কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্ধের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি করে এই সমমান প্রদান করা হল বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে এর একটা প্রজ্ঞাপন হবে। তারপর আপনারা যেভাবে চান সবকিছু মিলিয়ে একটা আইনি ভিত্তি যেন হয় সে বিষয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করব। অনেকেই এ বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছেন। আমি এটুকুই বলব কওমি মাদ্রাসার সনদকে আমরা স্বীকৃতি দিতে চাই- এখানে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী রয়েছেন, সচিবরা রয়েছেন, আমার দফতরের মুখ্য সচিব রয়েছেন এবং অন্য কর্মকর্তারা রয়েছেন, আশা করি এ ব্যাপারে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। যাতে এই সনদের স্বীকৃতি দ্রুত হতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের মতামত যেটা আমার কাছে এসেছে, সকলের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে এবং দেওবন্ধের যে মূলনীতি সেটার ওপর ভিত্তি করেই এটা হবে।’ বৈঠকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমেদ শফি, জাতীয় দ্বীনি শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরিদউদ্দিন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, ওলামা মাশায়েখ নেতাদের মধ্যে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, আবদুল হালিম বোখারি, মাওলানা নূর হোসেন কাশেমী বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের লোকেরা আমাদের কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করত। আমি সবসময় এটার প্রতিবাদ করতাম। আমি সবসময় এটাই বলতাম আমাদের দেশে শিক্ষার শুরুই হয়েছে কওমি মাদ্রাসা দিয়ে। এটা যদি শুরু না হতো তাহলে আমরা কেউ শিক্ষিত হতে পারতাম না। যারা দেওবন্ধ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাদের বিরাট ভূমিকা ছিল। তারাই প্রথম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। কাজেই আজকে যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি সেখানে তাদের অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারণ সেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকেই এই যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, আমি সবসময় মনে করি, আমাদের কওমি মাদ্রাসার একটা সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া একান্তভাবেই দরকার। সেজন্য আমরা আগে আল্লামা শফীকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম- যে কীভাবে এর কারিকুলামটা করা যায়। প্রায় ৬টা মাদ্রাসা বোর্ড আমাদের রয়েছে- তাদের সকলের মতামতটা কী, সেটাকেও আমাদের গুরুত্ব দেয়া। এটাও আমরা করতে চাই এবং সেই সঙ্গে অন্তত, একেবারে সর্বনিম্ন পয়েন্টে আপনারা যেন একমত হতে পারেন সেটা আমরা চেয়েছিলাম, যাতে আমরা সনদের স্বীকৃতিটা অন্তত দিতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি যে আজকে আপনারা সকলে মিলে গণভবনে এসেছেন এবং সকলে একমত হয়েছেন যে কওমি মাদ্রাসার সনদের একটা স্বীকৃতির ব্যবস্থা নেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন আমি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। আমাদের যে ছেলেমেয়েরা এই সনদটা পাবে অন্তত তাদের ভবিষ্যৎটা আলোর পথে যাত্রা শুরু করবে। তারা দেশে-বিদেশে চাকরি করতে পারবে, বিভিন্ন জায়গায় কাজ পাবে। তারা আরও উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তাদের জীবনে অনেক সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাদের এতদিন শিক্ষার কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছিল না, সনদের স্বীকৃতি ছিল না। এজন্য তারা কোথাও কোনো সুযোগ পেত না। এই সনদ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুযোগ তারা পাবে। তাদের জীবন সার্থক হবে। সফল হবে। তিনি বলেন, আমরা একটি ভূমি আইন করছি সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন এসেছে। আসলে সব ভূমি আইনেই সবসময় এটা ছিল। যখন কোনো ভূমি উন্নয়নের কাজ হয় তখন জমি অধিগ্রহণ করা হয়। আর এই অধিগ্রহণ করতে গেলে সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ অনেক কিছুই পড়ে। কাজেই এখানে মসজিদ সরানোর আলাদা কোনো আইন কিন্তু করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মসজিদে নববী এবং হারাম শরিফের উদাহরণ দেন। এই মসজিদ দুটিকে সম্প্রসারণের জন্য অনেক ছোট ছোট মসজিদ কিন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কাজেই এটা নিয়ে অন্য কিছু যদি কেউ বলে থাকে তাহলে সেটা সঠিক বলছে না। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরতে তিনি আলেমদের প্রতি অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে তিনি সরকারের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে সবাইকে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা দোয়া করবেন যেন দেশের খেদমত করতে পারি।

আরো খবর