বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ৩ কার্তিক ১৪২৪, ২৭ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৬:৪১ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৯:১৭:৪৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

প্রতিদিনই বাড়ছে চালের দাম, সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা

ঢাকা: প্রতিদিনই বাড়ছে চালের দাম । কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না চালের দামের লাগাম। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, বাজারে ৫৫ টাকা কেজির নিচে কোনও চাল-ই এখন আর মিলছে না। চাল সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও। চালের সংকট বা স্বল্পতার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজারের এ চিত্র শুধু রাজধানীতে নয়, সারাদেশের সব বাজারেই চালের সরবরাহে এখন ঘাটতি রয়েছে। সেই সাথে দামও লাগাম ছাড়া। এ জন্য সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন ভোক্তারা। অপরদিকে, লাফিয়ে লাফিয়ে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দুষছেন। সেই সাথে তাদের সুপারিশ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই বাড়াতে হবে সরকারি চালের মজুদ। এদিকে, চালের দাম লাগামহীন হওয়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু করে সরকার। কিন্তু ওএমএসের চালের দাম সরকার হঠাৎ বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করেছে। তাছাড়া খোলাবাজারে দ্বিগুণ দামে অর্থাৎ ১৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আতপ চালের প্রতি আগ্রহ নেই সাধারণ মানুষের। বরং খোলাবাজারে দ্বিগুণ দামে আতপ চাল বিক্রির সরকারের সিদ্ধান্তে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ নিম্নআয়ের মানুষ। এতে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বাজারে মোটা-চিকন সব ধরনের চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা বৃদ্ধির জন্য সরকারকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রথম দফার বন্যার শুরুতেই, সরকারি মজুদ বাড়ানো দরকার ছিলো। তবে সবচেয়ে অসহায় অবস্থা যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। সারাদিনের আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে চাল কিনতেই। তাই দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার আকুতি তাদের। রোববার থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হলেও তাতে কোনও প্রভাব পড়েনি চালের বাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজধানীতে চালের পাইকারি আড়তগুলোয় চাল সরবরাহ কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর দু’দফায় দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে চলতি মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান উৎপাদন। কিন্তু শুরুতে সরকার এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ না নেয়ায় এখন দেশে চাল সংকট প্রকট হয়েছে। এদিক খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১০ বছরের মধ্যে খাদ্যগুদামে চালের মজুদ সর্বনিম্ন পার্যায়ে রয়েছে। কয়েকটি দেশের সঙ্গে চাল আমদানির চুক্তি ও চাল আমদানিতে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না চালের দাম। আর কম উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে চালের দাম। সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খাদ্য বিভাগ জানায়, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গতকাল থেকে সারা দেশে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) কর্মসূচি চালু হয়েছে। চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। রোববার ও সোমবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন ওএমএস পয়েন্টে ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকস্মিকভাবে দ্বিগুণ মূল্য নির্ধারণ এবং আতপ চাল হওয়ায় খোলাবাজারের চালের প্রতি তাদের কোনও আগ্রহ নেই। তারা বলছেন, আতপ চালের ভাত তারা খান না। আবার দাম দ্বিগুণ। এটা গরিব মানুষের সঙ্গে সরকারের তামাশা ছাড়া কিছু নয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে সরকার দাবি করছে। যদিও ওএমএসের চালের দাম এবার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে গতকাল থেকে ওএমএসের মাধ্যমে একযোগে চাল বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক পয়েন্টে বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে। পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে অনেকে জানেনই না যে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি ফের শুরু হয়েছে। এদিকে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির বিষয়ে দেশটির ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকালও বৈঠক করেছে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে। অবশ্য এ সময় কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হয়নি। জানা গেছে, দেশটি প্রতিটন চালের মূল্য ৪৫০-৪৮৫ মার্কিন ডলার করে দাবি করছে। সফরকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিয়ানমার রাইস ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট উন থান উং। খাদ্য মন্ত্রণালয় ঢাকা রেশনিং বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাশ জানান, রাজধানীর ১০৯টি পয়েন্টে এবং সারাদেশের ৬১৭টি পয়েন্টে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে বলে আশা করেন তিনি। তবে গতকাল খোদ রাজধানীতে ওএমএসের ১০৯ টন চালের বরাদ্দ থাকলেও বিক্রি হয়েছে অর্ধেক। খাদ্য বিভাগের রেশনিং কর্মকর্তা ডি-১ তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ওএমএসের অনেক ভোক্তা পুরনো দামে (১৫ টাকা কেজি) কিনতে না পেরে ফেরত যেতে দেখেছেন তিনি। এই কর্মকর্তা বলেন, অনেক ভোক্তাই আতপ চাল কিনতে রাজি হননি। আর দাম বৃদ্ধির কথাও অনেকে জানতেন না। প্রথম দিন তাই ওএমএসের বিক্রিতে গতি আসেনি। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, ওএমএস চাল বিক্রি চলছে ঢিলেঢালাভাবে। ক্রেতার ভিড় তেমন একটা নেই। চালের বাজারে যখন আগুন, তখন ক্রেতা সমাগম কম কেন- জানতে চাইলে ওএমএসের ডিলার মো. মহিউদ্দিন জানান, প্রচার ছিল না, দামও দ্বিগুণ এবং আতপ চাল হওয়ায় এ সমস্যা। রাজধানীর ঝিকাতলা স্টাফ কোয়ার্টারের মোড়ে ট্রাকে করে ওএমএসের চাল বিক্রি করছিলেন তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মহিউদ্দিন জানান, দাম দ্বিগুণ ও আতপ চাল হওয়ায় ক্রেতাদের অনেকেই বিরক্ত হচ্ছেন। বলা যায়, যারা কিনছেন তারা একরকম ঠেকায় পড়েই কিনছেন। সেখানে দেখা গেল, ক্রয় করা চাল ফেরত দিতে এসেছেন মো. হাসানুজ্জামান নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ১৫ টাকার বদলে ৩০ টাকায় কেনা চাল, তা-ও আবার আতপ- এ কেমন কথা! সরকারের বিবেচনা বলে কি কিছু নেই? বেসরকারি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সাধারণ এই কর্মচারীর চোখে-মুখে হতাশা। চাল কিনতে আসা আরেক ক্রেতা রিকশাচালক আনিসুর রহমান। চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছিলেন অন্যদের কথা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে হতাশার সঙ্গে বলেন, ‘১৫ টাকায় কিনতে আসছিলাম চাল। এখন তো দেখি ৩০ টাকা। কী করুম ভাবতেছি, স্যার।’ ঝিকাতলার ঋষিপাড়ার গৃহিণী চিত্ররেখা। হতাশায় জর্জরিত এই নারী বলেন, ১৫ টাকার চাল ৩০ টাকা। তা-ও কিনলাম। ৪০ টাকা হলেও না কিনে উপায় নেই, ভাই। বাজারে চালের দামে যে আগুন, তাতে আমরা তো সবাই জিম্মি। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি গুদামে থাকা ১৭শ টন আতপ চাল বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত ওএমএসে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করা হবে না। এদিকে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা-চিকন সব ধরনের চালের দাম বেড়েই চলছে। সপ্তাহের ব্যবধানে নাজিরশাল, মিনিকেটসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। হাতিরপুল এলাকার এক রিকশাচালক বলেন, বাজারে তো ৫৫ টাকা কেজির নিচে কোনো চাউল নাই। আমরা গরিব মানুষ, মোটা চাউলই খাই। তাও এহন ৫৫/৫৬ টাকা কেজি। আমার সংসারে মানুষ ৫ জন। দৈনিক ৩ কেজি চাউল কেনা লাগে আমার। রিকশা চালায়া যা আয় করি তা যদি চাইল কিনতেই শেষ হইয়্যা যায়, তাইলে সংসারের অন্য খরচ ক্যামনে চালামু? একটি সূত্র বলছে, চালের চলমান সংকটে দেশে ৭৪ সালের মতো একটি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারকে বিব্রত করতেই ব্যবসায়ীরা এ চেষ্টা করছে। এজন্য কিছু ব্যবসায়ী ও মিলমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী। এদিকে, ১০ম সংসদের সপ্তদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের খাদ্য (চাল) নিয়ে আমরা কাউকে খেলতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চালের দাম বাড়ার কোনও যৌক্তিকতাই আমি দেখি না। এখানে কারা এই খেলাটা খেলছে সেটা আমাদের বের করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের একটা দুর্ভাগ্য যে কখনো কখনো কিছু মানুষ, মানুষকে নিয়েই খেলে। যেটা আমরা ’৭৪ সালেও দেখেছিলাম এবং তখন যিনি খাদ্য সচিব ছিলেন- তাকে পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান মন্ত্রী বানিয়েছিল। ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ আর ’৭৫-এর পরে ওই খাদ্য সচিবকে মন্ত্রী বানানোর যোগসূত্রটা কি সেটাও দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকেও আমাদের কিন্তু সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অপরদিকে চালের দাম অব্যাহত বাড়তে থাকায় রোববার এ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি চলছে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে চালের দাম। অথচ সরকারের এ নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা নেই। খাদ্য বিভাগ জানায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলতি অর্থবছরে ২২ হাজার ৪৬৩ জন চালকল মালিকের সঙ্গে বোরো চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে সরকার। শর্ত ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এরা সরকারি গুদামে ৮ লাখ টন চাল সরবরাহ করবেন। কিন্তু সরকারের আহ্বানে সাড়া দেননি তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল রোববার সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের চালকলগুলোয় অভিযানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে চালের অবৈধ মজুদ পেলে ওই চালকল মালিককে আটক করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজ (গতকাল) বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বরও কুষ্টিয়ায় আব্দুর রশিদের ১৩টি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে চাল উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে দু’জন ব্যবসায়ী নেতাকে গ্রেফতার করলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে নাকি নতুন সংকট তৈরি হবে?-এ নিয়ে সন্দেহ ব্যবসায়ীদের। আমদানিকারক মেরাজুল ইসলাম জানান, খোদ ভারতেই চালের বাজার চড়া হওয়ার কারণে পূর্বে এলসি করা চাল রপ্তানিকারকরা এখন পাঠাতে বিলম্বিত করছে। এমনকি রপ্তানিকারকরা প্রতিটনের এলসিতে আরও ১০০ ডলার বাড়িয়ে ৫০০ ডলার করার পাঁয়তারা করছেন। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা পর্যন্ত। আর সরু চাল ৬৮ টাকায়। বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে ভিন্ন চিত্র। গত কয়েক দিনে প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। এমনকি সকালে যে দামে বিক্রি হচ্ছে বিকালে নেয়া হচ্ছে এর চেয়ে বেশি। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের চালের বাজারেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। মোটা চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। টিসিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৫১ শতাংশ। আর মাসিক মূল্যের ভিত্তিতে মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৮.১৮ শতাংশ। গত বছর সেপ্টেম্বরে মোটা চালের কেজি প্রতি দাম ছিল ৩৩ থেকে ৩৬ টাকা। আর বর্তমানে এই মানের চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা দরে। আর এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৯ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরু চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৮ টাকা। গত বছর এই মানের চালের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। এখন উত্তম মানের নাজির ও মিনিকেট ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা। আর এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। আর বর্তমানে সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই মানের চালের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। আর এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। পাইজাম ও লতা উত্তম মানের ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। আর সাধারণ মানের ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই মানের চালের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। আর এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। এদিকে স্বর্ণা ও চায়না ইরি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকায়। সংস্থাটির তথ্য মতে, মাসের ব্যবধানে সরু চালের দাম বেড়েছে ১৬.০৭ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ মানের নাজিরশাইল ও মিনিকেট ১৭.৫৯, উত্তম মানের নাজিরশাইল ও মিনিকেট ১৪.৬৬, সাধারণ মানের পাইজাম ও লতা চাল ১৮.৫৬, উত্তম মানের পাইজাম ও লতা চাল ১৮.৯৫, স্বর্ণা ও চায়না ইরি চালের দাম বেড়েছে ১৮.১৮ শতাংশ। রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সবচেয়ে কম দামি চাল ৫৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ আগেই বাজারে এই চাল বিক্রি হতো ৪৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হতো ৫৫ টাকা কেজি দরে। এখন সে চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকার ওপরে। এ সময়ে কোনো কোনো দিন চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা। আবার চালের দামের ক্ষেত্রে এক বাজারেই ভিন্ন ভিন্ন দাম পাওয়া গেছে। চালের দাম কমার কোনো আশা দেখছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা। উল্টো দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। বিক্রেতারা জানান, এখন যে দামে তারা চাল বিক্রি করছেন, দু-একদিন পরে তাদের আরো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। কেননা তাদের এখন কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর