মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আওয়াল, ১৪৩৮ | ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৭ ০৪:১২:৪৩ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

পরীক্ষা ছাড়াই গণহারে নিয়োগ দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

ঢাকা: কোনো ধরণের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। সোমবার পর্যন্ত ২৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন শাখায় পোস্টিংও দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর তালিকা অনুযায়ী আরো ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টো। একইভাবে রাজনৈতিক কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হবে না বললেও তাদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে এখনো আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। অন্যদিকে আকস্মিক পরিবর্তনের পরে অস্বাভাবিক দ্রুততায় ব্যাংকটির নতুন এমডির নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আরটিএনএন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ রবিবার ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলেন, এ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার কারণেই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ নিয়োগ পেত। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইবিএ’র মতো প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। অথচ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া শুরু করে দিয়েছে ব্যাংকটি। বিভিন্ন শাখায় নিয়োগপ্রাপ্তদের পোস্টিংও দিয়ে  দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মধ্যে রমনা, হেড অফিস কমপ্লেক্স ভবন ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় একজন করে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। গ্রেড টু ও অফিসার হিসাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক কর্মকর্তাকে দুই ধাপ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যিনি ওই বিশেষ ব্যবসায়ী গ্রুপের ফাইলপত্র দেখতেন বলেও নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।   ব্যাংকটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, একমাস আগে বোর্ডসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবটি ছিল এরকম, নতুন লোকবলের প্রয়োজনে ছোট-খাট পোস্টে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে পারবেন। এজন্য বোর্ডের অনুমতি বা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, অবশ্য ওই সভায় ১০ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।   গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শীর্ষপদে সহসাই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। আর এ পরিবর্তনের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কাউকে রাজনৈতিক কারণে ছাঁটাই করা হবে না। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা গাড়িতে বোমা বা প্রেট্রোল মারতে গেলে পুলিশের কাছে ধরা পড়লে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও জানান তারা। তবে এ আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।   গত বৃহস্পতিবার পরিবর্তনের পর চেয়ারম্যানসহ এমডি ও ডিএমডি পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে নতুন দায়িত্বে আসা ব্যক্তিদের নিয়োগের অনুমোদন অতি দ্রুততার সঙ্গে করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন একজন এমডি ও চারজন ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিয়োগ অনুমোদন করে রবিবারই আবার চিঠি পাঠান হয় ইসলামী ব্যাংকে। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় পদত্যাগপত্র পাঠান ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আব্দুল হামিদ মিঞাকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করে পর্ষদ। এছাড়া চার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টকে (ইভিপি) পদোন্নতি দিয়ে ডিএমডি নিয়োগ করা হয়। নতুন চার ডিএমডি হলেন ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, কর্পোরেট ডিভিশন-১ প্রধান মোহন মিয়া, কর্পোরেট ডিভিশন-২ এর প্রধান মনিরুল মওলা ও মোহাম্মদ আলী।   বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ইসলামী ব্যাংকে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। বিধি মোতাবেক পরিবর্তনের বিষয়টি জানানর বিষয় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তারা তা জানিয়েছে। যিনি নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি আগেও একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর এমডি পরিবর্তনের বিষয়ে তারা আমাদের কাছে অনুমোদন চেয়েছে। আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।   ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ডিএমডি নিয়োগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জনস্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধে ইসলামী এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর ও বিতর্কিতরা যেন ব্যাংকে নিয়োগ না পান এই জন্য যোগ্য লোককে নিয়োগ দিতে এই বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। নিয়মানুযায়ী এমডি ও ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয় ইসলামী ব্যাংক।   ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার বোর্ডে পদত্যাগপত্র পাঠান। বোর্ড তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন এমডি নিয়োগ করেন। এদিকে নতুন এমডি আবদুল হামিদ মিঞাকে অবশ্যই ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তার ক্ষেত্রে এক মাসের নোটিস দেওয়ার বিধিবিধান প্রযোজ্য।   এ বিষয়ে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের এমডি শারীরিক অক্ষমতার কথা বলে পদত্যাগ করেছেন। তিনি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো অভিযোগ করেন তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব। নিয়মকানুন মেনেই সবকিছু হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় হলে সে বিষয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 
 

আরো খবর