বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭, ১৪ আষাঢ় ১৪২৪, ৩ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ০৫ জানুয়ারী ২০১৭ ০৪:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

একদিনে তিন ডবল সেঞ্চুরি : ‘১৮’তেই সাইফের রেকর্ড

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। বয়স ১৮ বছর ৬৬ দিন। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ১৪ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। সেই সঙ্গে নিজের নামও যোগ করেছেন রেকর্ডের পাতায়।  ১৩তম ম্যাচে পেয়েছিলেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। তার পরের ম্যাচে বাংলাদেশের সর্ব কনিষ্ট ক্রিকেটার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে হাঁকালেন ডবল সেঞ্চুরিও। সেই সঙ্গে সিলেটর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার এই রকর্ডে নিজের নাম জুড়ে দিয়েছেন  তৈয়াবুর পারভেজও। সাইফের প্রথম ডবলের দিনে নিজের দ্বিতীয় ডবল হাঁকালে ঢাকা বিভাগের এই ব্যাটসম্যান। দু’জনের রেকর্ডে মিলে আরো একটি নতুন রেকর্ড হলো বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। একদিনে একই ইনিংসে এটিই প্রথম দু’টি ডবল সেঞ্চুরির ঘটনা। সেই সুবাদে বরিশালের বিপক্ষে ঢাকার প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ১০১ রান তুলতে বরিশাল হারায় ৬ উইকেট। এখানেই শেষ নয়, জাতীয় লীগের ইতিহাসে একদিনে তিন ডবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও হয়ে গেল গতকাল। এ দিন সিলেটের হয়ে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ডবল সেঞ্চুরি করেছেন জাতীয় দল থেকে বাদপড়া ক্রিকেটার অলক কাপালিও। অন্যদিকে রান উৎসবের দিনে অবশ্য সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাও আছে। ফতুল্লায় খুলনার ২০৭ জবাবে ঢাকা মেট্রোর প্রথম ইনিংস থামে ১২২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেট হারিয়ে খুলনার লিড ৩৫৭ রানের। অন্যদিকে বগুড়াতে রংপুর রাজশাহীর লড়াই। রংপুরের প্রথম ইনিংসে নেয়া লিড টপকাতে রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৮ রান পিছিয়ে হাতে আছে ৯ উইকেট। এনসিএল’র শেষ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন সিলেটে নিজের সেঞ্চুরিটিকে সাইফ হাসান পরিণত করেছেন সাইফ হাসান। তার সঙ্গে তৈয়াবুর রহমান খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তাদের দৃঢ়তায় বরিশালের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়েছে ঢাকা। সাইফ যথারীতি খেলেছেন স্বভাবসুলভ ধৈর্য্যশীল ইনিংস। ৫৫৬ মিনিট ক্রিজে থেকে আউট হয়েছেন ২০৪ রান করে। এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান একশ’ রান পেতে খেলেন ২১৮ বল। ডবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৪০৫ বলে। সাইফের ৪১০ বলের ইনিংসটি গড়া ২০টি চার ও একটি ছক্কায়। চলতি আসরে এ পর্যন্ত দু’টি  সেঞ্চুরিতে ৯০.৫০ গড়ে করেছেন ৩৬২ রান। সাইফের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৩০৪ রানের বড় জুটি গড়া তৈয়াবুর খেলেন ২৪২ রানের দারুণ এক ইনিংস। ১৬৪ বলে আসে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের  সেঞ্চুরি। এরপর ডবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ২৭৫ বলে। ৩০১ বলে খেলা তার ২৪২ রানের ইনিংসটি ২৬টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। এর আগে  ২০১৩-১৪  মৌসুমে প্রথম ডবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি। সেবার করেছিলেন ২০৭ রান। তবে  বোলারদের ব্যর্থতার দিনে সফল তৌহিদুল ইসলাম। ৮৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন এই  পেসার।  পাঁচ  সেশন ফিল্ডিংয়ের পর জবাব দিতে  নেমে দুই অঙ্কে যেতে পারেননি বরিশালের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কেউই। শাহরিয়ার নাফীস ও জাকারিয়া মাসুদকে ফেরান মোহাম্মদ শরীফ। শাহাদাত  হোসেনের শিকার শাহিন  হোসেন ও ফজলে মাহমুদ। এখন মনির  হোসেন ১৫ ও সালমান  হোসেন ৬ রানে ব্যাট করছেন। অলক কাপালির অপরাজিত ডবল অলক কাপালি তখন অপরাজিত ১৮৬ রানে। সেই ওভারে দুই ছক্কায় ১৪ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডবল পেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৫৫৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট। ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আছেন দারুণ ছন্দে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরি ও ৬টি ফিফটিতে ৮৮.৯২ গড়ে ১ হাজার ১৫৬ রান করেছেন তিনি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লীগের টায়ার-২ এর ম্যাচে গতকাল ৪ উইকেটে ৩০৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে সিলেট। নিজের ১৯তম সেঞ্চুরির পথে বেশ সাবধানী ছিলেন সিলেটের অধিনায়ক। তিন অঙ্ক ছুঁতে কাপালি খেলেন ২০৪ বল। ৭টি চার ও দু’টি ছক্কা। এরপরই স্বাগতিক বোলারদের ওপর চড়াও হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পরের ৬২ বলেই পৌঁছে যান ডবল সেঞ্চুরিতে। ২৬৬ বলে খেলে ১২টি চারের সঙ্গে ১০টি ছক্কা মারে সাজান তিনি ২০০ রানে অপরাজিত ইনিংসটি। এই রান করার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৮ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন তিনি। কাপালির সঙ্গে ১২৭ রানের জুটি গড়ার পথে ৭৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন জাকের আলী। এরপর জবাব দিতে নেমে ২৯ রানে তিন উইকেট হারানো চট্টগ্রামের হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নাফীস ইকবাল ও ইয়াসির আলী। চতুর্থ উইকেটে এই দুইজনে গড়েছেন ৮৬ রানের জুটি। ৮৬ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত ইয়াসির। দিনের দ্বিতীয় শেষ বলে ছক্কা হাঁকানো নাফিস ব্যাট করছেন ৫১ রানে।  দিন  শেষে ৩ উইকেটে ১১৫ রান করা চট্টগ্রাম এখনও পিছিয়ে ৪৪০ রানে। মেট্রোর লজ্জার দিনে বিজয়ের সেঞ্চুরি এই আসরেই নিজের ১১তম সেঞ্চুরি করেছিলেন চতুর্থ রাউন্ডে। শেষ রাউন্ডে হাঁকালে ১২তম সেঞ্চুরি। যেন ব্যাট হাতেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার জবাব দিতে চাইছেন এনামুল হক বিজয়। যদিও ১৮তম এনসিএল-এ শিরোপার দাবিদার খুলনা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ২০৭ রানে। জবাব দিতে নেমে রান উৎবের দিন ঢাকা মেট্রো অলআউট হয় ১২২ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন শরিফুল্লাহ। ৮৫ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে ৫৮.২ ওভারে ২৭২ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করে খুলনা। সেই সুবাদে তাদের লিড ৩৫৭ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। বিজয় ১৫৩ বলে ১২টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে ১২২ রান করেন।

 
 

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর