রোববার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৯ জমাদিউল আওয়াল, ১৪৩৮ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শুক্রবার, ০৬ জানুয়ারী ২০১৭ ০১:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নাটকীয় ব্যাটিং ধসে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও খোয়ালো বাংলাদেশ। শুক্রবার মাউন্ট মঙ্গুনুইয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪৭ রানে হেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মাশরাফি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯৫ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিক দল। জবাবে ১৪৮ রানে সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরেছিল বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে বাজে পারফরম্যান্স করে আসছিলেন ব্যাটসম্যানরা। মূলত টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে কোনো ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারছিলেন না। আজও একই চিত্রনাট্যের পুনঃরাবৃত্তি! বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি টাইগাররা। ১০৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর পরবর্তী ৪৪ রান তুলতে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ধসের নাটকীয়তায় নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারল বাংলাদেশ। পাহাড় সমান লক্ষ্যের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারে ইমরুল শূন্য রানে বিদায় নেন। মিচেল স্যান্টনারের বলে ডিপ মিড উইকেটে টম ব্রুসের হাতে ক্যাচ দেন ইমরুল। স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান পুরো সফরে রান খরায় ভুগতে থাকা ইমরুল। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির রহমান ও তামিম ইকবাল ৩৩ রানের জুটি গড়েন। তামিমের রান আউটে এ জুটি ভাঙার পরপরই সাকিব নিজের উইকেট প্রতিপক্ষকে ‘উপহার’ দেন। বেন উইলারের বলে কভার পয়েন্টে জেমস নিশামের হাতে ক্যাচ দেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ১ রানেই শেষ সাকিবের প্রতিরোধ। চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে কিউই বোলারদের কড়া শাসন করেন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। লেগ স্পিনার ইশ শোধির করা প্রথম ওভারে ১৬ রান তুলেন দুজন। দুই ওভার পর পেসার গ্র্যান্ডহোমকে তুলোধুনো করে দুই তারকা ক্রিকেটার। ইনিংসের সর্বোচ্চ ২১ রান আসে এ ওভারে। তাদের ব্যাট ধরে ১০.৩ ওভারে শতরানের দেখা পায় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য তখন ৫৭ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৯৬ রান। ধারাভাষ্য কক্ষে বসে আতাহার আলী খান বারবার বলছিলেন, ‘আজই বাংলাদেশের সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার। দারুণ ধারাবাহিক আছে দুজন। ১৫ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকলে যেকোনো কিছু হওয়া সম্ভব।’ কিন্তু কে শুনে কার কথা! ওই ওভারের পঞ্চম বলে সৌম্য সরকার আউট। ট্রেন্ট বোল্টের শর্ট বল অফস্ট্যাম্পের বাইরে এসে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন সৌম্য। ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ থাকা সৌম্য আজ বড় কিছুর ইঙ্গিত দিলে তার ইনিংটি থেমে যায় ৩৯ রানে। ২৬ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান সৌম্য। সৌম্য যখন আউট হলেন তখন দলীয় রান ১০৪। সেখান থেকে ১৪৮ এ যেতেই শেষ ৬ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ১৩তম ওভারে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাব্বির রহমান লং অফে ক্যাচ দেন। ৩২ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় সাব্বির করেন ৪৮ রান। এরপর মোসাদ্দেক (১), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৯), মাশরাফি (১) ও নুরুল হাসান (১০) আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিলেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন রুবেল হোসেন (১)। এর আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দূর্দান্ত। ৪৬ রানে বাংলাদেশ ৩ কিউই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে  ফেরত পাঠান। ইনিংসের প্রথম বলে মাশরাফি লুক রনকির উইকেট নেন। সাকিব আল হাসান পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে নেন কেন উইলিয়ামসনের উইকেট। পরের ওভারে মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হন কোরি অ্যান্ডারসন। চতুর্থ উইকেটে ইনিংসের মোড় ঘুরে যায়। চতুর্থ উইকেটে কলিন মুনরোকে নিয়ে ১২৩ রানের জুটি গড়েন টম ব্রুস। এ সময়ে তাণ্ডব চালান মুনরো। ৫২ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। মুনরোর তোপে পুড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ডানহাতি স্পিনারের করা ১৩তম ওভারে ২৮ রান তুলেন কলিন মুনরো। ৩ ছয়, ২ চার ও ১ ডাবলস খরচ করে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন অসহায়! বিধ্বংসী ব্যাটিং করা মুনরোকে থামান রুবেল। নিজের তৃতীয় ওভারে রুবেল কিউই শিবিরে জোড়া আঘাত করেন। সেঞ্চুরিয়ান কলিন মুনরোকে ১০১ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠানোর পর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে বোল্ড করেন রুবেল। ৫৪ বলে ৭ চার ও ৭ ছক্কায় ১০১ রান করেন মুনরো। মুনরোর বিদায়ের পরও টম ব্রুস ব্যাট চালিয়ে যান। ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রুস। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। বল হাতে রুবেল হোসেন ৩৭ রানে নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, সাকিব ও মোসাদ্দেক ব্যাটিং ব্যর্থতার বারবার আশা জাগিয়ে হারছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড সফরে এখনও পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙেনি টাইগারদের। রঙিন পোশাকে কিউইদের মাটিতে আরেকটি ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল। শেষ টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার বিষয়! ৮ জানুয়ারি এ প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।  

 
 

আরো খবর