শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪, ২ সাবান, ১৪৩৮ | ০৯:২২ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শুক্রবার, ০৩ মার্চ ২০১৭ ০৭:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

‘আমার ইসলাম’ ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা উগ্রতা নয়: ওমর সুলেইমান

 

 

 

টেক্সাস: আমি ইসলামে বিশ্বাস করি কেবল একটি উপায় হিসেবে নয়, বরং সামগ্রিক উপায় হিসেবে। শুধু সত্যের একটি ব্যাখ্যা হিসেবে নয়, বরং পুরো সত্য হিসেবে; যা আমাকে ঘৃণ্য বা অসহনীয় করে তুলেনি এবং যা আমাকে শুধুই একজন মুসলিমে পরিণত করেছে।

 

আমি এও বিশ্বাস করি যে, অন্যদেরও একই অধিকার এবং অভ্যাস খুঁজে বের করার সামর্থ্য থাকা উচিৎ; যা তারা সত্য বলে বিশ্বাস করে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই ও আমার পথে আসার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। 

 

আমি একজন খ্রিস্টান বা ইহুদি বা অন্য কোন ধর্মের মানুষের অধিকারকে সম্মান করি এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে তেমনটাই বোধ করি; যেমনটা আমি আমার ধর্ম সম্পর্কে বোধ করি। বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য সত্ত্বেও, আমি জোর দিয়ে বলছি যে, সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি এবং যার মাধ্যমে পরবর্তীকালে আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকতে পারি।

 

 

কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা কিছু অনুমোদন ও নিষিদ্ধ করেছে তা আমাকে মেনে চলতে হবে। এটি আমাকে অন্যের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য বা অসহনীয় করে না। এটি আমাকে শুধুই একজন মুসলিমে পরিণত করেছে।

 

আমি বিশ্বাস করি যে, কোরআন ও সুন্নাহ মেনে চলার অর্থ হচ্ছে সমাজে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা ছড়িয়ে দেয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। এই সহনশীলতা আমাকে কারো বিশ্বাস এবং ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে উন্মুক্তভাবে এবং প্রকাশ্যে অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা দিয়েছে। কোন বিদেশিকে এই ধর্মমতের বিধান গ্রহণের ব্যাপারে ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই। তাই আমার নিজের নৈতিক মান সমুন্নত রাখতে অন্যের অধিকারকে মর্যাদা ও মানবতা দিয়ে বিচার করতে হবে।

 

আমার ধর্মমতের মধ্যে যেসব ধারণা অনিবার্য ফলস্বরূপ আমাকে একজন ‘অবিশ্বাসী’ নাগরিক বা একজন ‘বিবাদমান প্রতিবেশি’ বানায় তা গ্রহণ করতে আমি অস্বীকৃতি জানাই। আমি সব ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি; যা সব মানুষের উপকারে আসে। 

 

যদি আমার কোনো সহকর্মী পণ্ডিত, কর্মী কিংবা বিশ্বাসী নেতা ওই লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমাকে আমার নিজের নীতি পরিত্যাগ করতে বলেন তখনো আমি তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নই।

 

যদি অনুসারী মুসলমানেরা আমার বিশ্বাস ও ন্যায় বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন করতে চান, তারপরেও আমি আমার সম্পর্কে তাদের অনুভূতি পরিবর্তন করতে আগ্রহী নই। আমি উদ্ধত ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় উগ্রতার মধ্যে ধরা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সা.) কে রহমত স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। আমাদের ধর্মবিশ্বাস আমাদের কাজের জন্য অপরিহার্য এবং আমাদের কাজ সব আকীদা-বিশ্বাস মানুষের উপকারে আসতে হবে।

 

পবিত্র কোরআনের ৪:১৩৫ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তোমাদেরকে দৃঢ় থাকতে হবে। আল্লাহকে সাক্ষী হিসেবে, তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতার অথবা তোমাদের আত্মীয়স্বজন বিরুদ্ধে হতে পারে, সে ধনী কিংবা দরিদ্র হতে পারে; উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ অতি সন্নিকটে রয়েছে। অতএব, তোমাদের নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, পাছে তোমরা পথভ্রষ্ট হতে পার এবং যদি তুমি আচমকা পথ পরিবর্তন কিংবা বিপথগামী হও, তবে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত আছে।’

 

লেখক: ইয়াকিন ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান ও টেক্সাসের সাদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ডালাসের ভ্যালি রানচ ইসলামিক সেন্টারের পণ্ডিত এবং ডালাসের কো-চেয়ার।

 

মুসলিম-ম্যাটার ডট ওআরজি অবলম্বনে

 

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর