শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৫ কার্তিক ১৪২৪, ২৯ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৪:১৮ অপরাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
রোববার, ০২ এপ্রিল ২০১৭ ০৬:২৭:০০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

গণতন্ত্র, ব্যক্তি অধিকার ও মর্যাদা যারা হরণ করে তারা আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয় : চট্টগ্রামে মাহমুদুর রহমান

 

 

আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট চরিত্রে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের বড় একটি অংশ নানা নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা-গুমের মতো অমানবিক পাশবিকতার শিকার হচ্ছে। এ সরকারের হাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকার, জনজীবনের নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতি সবকিছুই বন্দী হয়ে পড়েছে। সরকার আইন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র, ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদা যারা হরণ করে তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। সংবাদপত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা ফ্যাসিস্ট এ সরকারের অনিবার্য পতনকে আরো ত্বরান্বিত করবে।’ তিনি গতকাল চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। পিপলস মুভমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাসি চট্টগ্রাম চেপ্টার আয়োজিত এ আলোচনায় শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও পেশাজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে ‘সময়ের লড়াকু সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘সরকারের অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরণ, জুলুম নির্যাতন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরা তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’ অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন, জাতীয় প্রেস কাবেব সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, অ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএমএ সাবেক সভাপতি ডা: খুরশীদ জামিল চৌধুরী, আমার দেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম জানে আলম, অ্যাব চট্টগ্রাম সভাপতি প্রকৌশলী কে এম আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, জাতীয় প্রেস কাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর নসরুল কাদির, অ্যাবের সাবেক নেতা প্রকৌশলী আফজল হোসেন সবুজ, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, চট্টগ্রাম মহিলাদলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি প্রমুখ। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এ শাসন আমলে নির্বিচারে বিরোধী দলের মানুষকে খুন ও গুম করা হচ্ছে। গত আট বছরে বিএনপির প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। শহীদী মৃত্যু কামনা করে যদি ওই ১০ হাজার মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে রাজপথে নামতেন তাহলে আওয়ামী সরকারের পালানোর জায়গা থাকত না। নূরুর মতো নেতাকর্মীদের খুন হতে হতো না। আমরা আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার পালানোর পথ পাবে না।’ তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আন্দোলন সফল করা যায় না। বিএনপিকে জনগণের কাছে ফিরে আসতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে, তাদেরও পতন হবে তারই অপেক্ষায় রয়েছে জাতি।’ মুখ্য আলোচনায় বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এমনপর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাষ্ট্র টিকবে কি না, এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, তারা কখনোই ভাবিনি যে রাষ্ট্্র একটি নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। বাংলাদেশ খুন গুমের রাষ্ট্্ের পরিণত হবে। বর্তমানে যেটা হচ্ছে, সেটাকে রাষ্ট্্রীয় অনাচার বলা ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না। গোটা দেশই আজ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিশুদের জঙ্গি বলে হত্যা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের খুন গুম করা হচ্ছে। সংবাদপত্রগুলোর কণ্ঠরোধ করে রাখা হয়েছে। সরকারের জুলুম নির্যাতন এমনপর্যায়ে পৌঁছেছে এখন আর প্রতিবাদ জানাতে ঘরের বাইরে বের হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে দেশ ও দেশের মানুষকে বর্তমান অত্যাচারী সরকারের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘সাম্য, নাগরিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য আমরা ৭১-এর যুদ্ধে জোট বেঁধেছিলাম। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। গণতন্ত্র বিপন্ন এ দেশে এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।’ জনগণকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করতে হবে।’ চট্টগ্রাম নগর বিএনপি সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আজকে মানুষ গুম হয়ে যায় অথচ পুলিশ জানে না। খুন হলে পরিবারের লোকজন মামলা করতে ভয় পায়। মানুষের কোনো স্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই। গণতন্ত্র তো দূরের কথা। দেশ ও মানুষকে বাঁচানোর সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনমত সৃষ্টি করে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’ তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা লড়াই করার শপথ নিচ্ছি, এ জন্য যদি জেলে যেতে হয়, ফাঁসি হয় তাও করব। এ সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে, এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর