শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ১ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
রোববার, ১৬ জুলাই ২০১৭ ০৪:০১:০৫ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মামলা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি মাহমুদুর রহমানের

ঢাকা: গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় আসামি তালিকা থেকে নিজের নাম খারিজ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। রোববার ঢাকার নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের জন্য নির্ধারিত এই মামলার শুনানি মাহমুদুর রহমান নিজেই করেন। ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট জসিম উদ্দিনের আদালতে মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে অংশ নিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাকে হয়রাণী করার জন্যই সম্পূর্ণ উদ্যেশ্যমূলকভাবে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলার এজহারে বাদী কোথাও আমার নাম উল্লেখ করেননি। মামলার দু’জন স্বাক্ষীও এ মামলয় আমাকে জড়িয়ে কোনও স্বাক্ষ্য দেননি। এরপরও পুলিশ চার্জশিটে “সন্ধিগ্ধ” আসামি হিসেবে আমার নাম অর্ন্তভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, কোনও আসামির নাম ‘সন্ধিগ্ধ’ হিসেবে এনে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার কোনও বিধান আইনে নেই। আদালতে মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, এই মামলায় আমাকে নয় নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে। আমার নামও ভুল লেখা হয়েছে। অন্য আাসামির পরিচয়, রাজনৈতিক পদবী ইত্যাদি উল্লেখ করা হলেও চার্জশিটে উল্লেখিত মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের কোনও পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আমার নাম মাহমুদুর রহমান। মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান আমি নই। ২০১৩ সালে যখন মামলাটি দায়ের হয় তখন আমার বয়স ছিলো ৬০ বছর। কিন্তু চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে মুহাম্মদ মাহমুদর রহমানের বয়স ৫৭। তিনি আদালতের উদ্দেশ্য আরও বলেন, এই মাহমুদুর রহমান আমি কোনও অবস্থাতেই হতে পারি না। কারণ আমার পরিচয় রয়েছে। আমি সরকারের জ¦ালানী উপদেষ্টা ছিলাম, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলাম এবং বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক। আমি বুয়েট থেকে পাস করা একজন প্রকৌশলী ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। আমার এতগুলি পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমার কোনও পরিচয় উল্লেখ করেনি। মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাকে চার্জশিটে বলা হয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামি। আমি এই মামলায় গ্রেফতার হইনি। আমাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এছাড়া এই মামলায় আমার অন্যায় রিমান্ড মঞ্জুর করার ৮ মাস পর রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় তখন আমাকে আদালাতে হাজির করা হয়নি। অথচ হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোনও আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করতে হলে তাকে আদালতে হাজির করা আবশ্যক। এসময় তিনি তার যুক্তির পক্ষে হাইকোর্ট ও আপিল বিভার তিনটি নির্দেশনা আদালতে দাখিল করেন এবং তাকে হয়রানীমূলক এই মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেন। এসময় মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডকোটে সানাহউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। রাষ্টপক্ষে মামলার শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)। আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চার্জগঠনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়েপুলিশের নজরবন্দী থানা অবস্থায় ২০১৩ সালের মৎস্যভবন এলাকায় একটি ট্যাক্সি ক্যাবে আগুন দেয়ার ঘটায় মামলা দায়ের করেন ক্যাবের চালক বাবুল মিয়া। এজহারে মাহমুদর রহমানকে আসামি না করা হলেও পরবর্তীতে ওই মামলায় মাহমুদুর রহমানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর