মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ০২:৩০ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি


বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৩২:৩৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

আ.লীগ ছাড়া নির্বাচনে গেলে ফল কী হবে- তা ইনু নিজেও জানেন: কাদের

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে জাসদের সভাপতি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ১৪-দলের সভা আহ্বান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু হঠাৎ করে ক্ষোভে একটি বোমা ফাটালেন। তার ক্ষোভের বিষয়ে জানার জন্য ১৪-দলীয় জোটের একটি সভা ডাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বুধবার হাসানুল হক ইনুর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। খবর বাসসের। মহাজোট সরকারের শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটানোর কয়েক ঘন্টা পর জবাব এসেছে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাসদ যদি আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচনে যায়, তার ফল কী হবে- তা ইনু নিজেও জানেন। কাদের এও বলেন, আলোচনা করা ঠিক নয়। উনার যা ক্ষোভ আছে, এটা আমরা দলীয় ফোরামে, সরকারি ফেরামে আলাপ করে নেব। চিন্তার কোনো কারণ নেই। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা বই বিতরণের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, কেন্দ্রীয় ১৪-দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে জাসদ সভাপতির ক্ষোভের কথা জানার জন্য ১৪-দলের সভা ডাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জাসদ সভাপতি কিছুটা অভিমান ও অধিক আত্মবিশ্বাস থেকে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। হঠাৎ করে এ ধরনের কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক নয়। কাদের এ বিষয়ে আরো বলেন, তিনি (ইনু) নিজেও জানেন আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে রেজাল্ট কি হয়। আগামী ১২ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনগনের জান-মাল হুমকিতে পড়লে সরকার চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে মারামারি একটি সাধারণ বিষয়ে পরিনিত হয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলে জনগণের জানমাল হুমকির মুখে পড়লে তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা যা করার দরকার তাই করবে।’ কাদের বলেন, বিএনপিই বিএনপির প্রতিপক্ষ। মারামারি ছাড়া কোন সমাবেশই শেষ করতে পারে না। তারা নিজেরা মারামারি করে সরকারের ওপরে দোষ চাপায়। তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে। এটাই সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় সহায়তা। কারণ, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিতে সরকার যেমন ভয় পায় পুলিশও তেমনি ভয় পায়। কাদের বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যেভাবে মারামারি করে সে মারামারি থামাতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়। আবার তাঁরা নিজেরা মারামারি করে সরকারের ওপর দোষ চাপায়। ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির যোগসাজসে বিএনপি স্বাধীনতার মহানায়ককে খলনায়ক আর খলনায়ককে মহানায়ক বানোনোর ষড়যন্ত্র করেছিলো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইউনেস্কো বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়েছে। কাদের বলেন, আগামী ১৮ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ৭দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী রীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা এ সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।






আরো খবর