সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, ২৮ জিলকদ, ১৪৩৮ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭ ০৮:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

রাজনীতির একাল-সেকাল

কেমন আছেন, কী করছেন একসময়ের দাপটে নেতা মিনু-নাদিম?

কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়েই বিএনপির রাজনীতিতে অধপতন ঘটে এক সময়ের প্রভাবশালী দুই নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার। গেল ডিসেম্বরে দুই নেতাকে বাদ দিয়েই রাজশাহীর নতুন কমিটি ঘোষণায় স্থানীয় বিএনপিতে তাৎক্ষণিকভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাকর্মী খুশি। তবে নতুন কমিটি নিয়ে খুশি হতে পারেনি ওই দুই নেতার সমর্থকরা। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গেল ডিসেম্বরে সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় হয়, রাজশাহী মহানগর কমিটিতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে (আংশিক কমিটি) এবং অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট একেএম মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে রাজশাহী জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। আগের কমিটিতে মহানগরের সভাপতি ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু ও জেলার বিএনপির সভাপতি ছিলেন নাদিম মোস্তফা। নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েন জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুল মনির এবং পদোন্নতি হয়নি মিলনের। এবারো মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়েছে তাকে। জেলার নতুন কমিটির সভাপতি তপু ও সাধারণ সম্পাদক মন্টুর পদোন্নতি হয়েছে। তপু ছিলেন আগে কমিটির সহসভাপতি এবং মন্টু ছিলেন জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। এ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনে রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতি নয়া মেরুকরণের দিকেই এগিয়ে গেল। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের ধারণা, সরকারবিরোধী আন্দোলনে হাইকমান্ডকে খুশি করতে না পারায় পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হল মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফাকে। তবে মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ মানতে চান না। তারা উভয়ই বলেন, তাহলে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যে মামলা হয়েছে, তা কি কারণে? আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম বলেই এসব মামলা দিয়েছে সরকার। এদিকে রাজশাহীর রাজনীতিতে মিনু-নাদিমের মাইনাস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। কারণ মিজানুর রহমান মিনু মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির আগের কমিটিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবও ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে রাজশাহী অঞ্চলে এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা মিনু এখন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাত্র। আরেক দাপুটে নেতা এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে দাবিদার নাদিম মোস্তফা আগের কমিটিতে ছিলেন বিশেষ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি। নতুন নির্বাহী কমিটিতে তাকে শুধু সদস্য করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে যেমন মিজানুর রহমান মিনুর কথাই শেষ ছিল। তবে শফিকুল হক মিলন নেতাকর্মীদের মাঝে মিনুর ‘একান্ত অনুগত’ হিসেবেই পরিচিত। ফলে মিনুর সিদ্ধান্তের বাইরে কখনো যাননি মিলন। তবে ২০১৩ সালে বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মিনু তার সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলা শুরু করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে মহানগর যুবদলের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন মিনু। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। তীব্র বিরোধিতার মুখে যুবদলের ওই কমিটি বাতিল করা হয়। তখন থেকেই মূলত বুলবুল অনুসারী নেতাকর্মীরা মিনুর বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হন। তারা বলছেন, মিজানুর রহমান মিনু এতদিন একাই বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার বাইরে মতামতের কোনো গুরুত্ব ছিল না। ফলে নেতাকর্মীরা মিনুর চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তই মেনে নিতেন। তবে মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে বুলবুল আসায় এটিকে তাদের বিজয় হিসেবেই দেখছেন। মিনুর বাদ পড়া বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে এটাকে দলের জন্য মঙ্গলজনকই বলছেন। তবে মিনু বিরোধীরা যে খোশমেজাজে রয়েছেন তা তাদের চেহারাতেই ভাসছে। এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে এসব বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলের নীতিনির্ধারকরা যেটা ভাল মনে করেছেন সেটাই করেছেন। এ প্রসঙ্গে নাদিম মোস্তফা বলেন, ‘আমি ১৯৮০ সালে রাজশাহী নিউ গভঃমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। বিএনপি আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে জীবনে ত্যাগ-তিতীক্ষা ও সততার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় ৩০ বছর বয়সে জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির যে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আমি সে কমিটির নেতৃবৃন্দকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। আগামী আন্দোলন সংগ্রামে এই কমিটি এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আমি এই কমিটির মঙ্গল কামনা করছি এবং আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে থাকতে চাই এটা আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা’। যেসব কারণে মিনু-নাদিমের অধঃপতন দীর্ঘ তিনযুগ ধরে রাজশাহীতে বিএনপির দাপটে নেতা মিনু-নাদিম। প্রথম দিকে তারা একে-অপরকে সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে অন্তর্দ্বন্দ্বে নিজেরা জড়িয়ে পড়েন। শীর্ষ দুই নেতার টানাটানিতে ক্ষুব্ধ হন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থক ও পেশাজীবীরা। একদিকে রাজশাহীর রাজনীতিতে বড়ভাই বলে পরিচিত মিজানুর রহমান মিনু, অন্যদিকে ছোটভাই বলে পরিচিত অ্যাড. নাদিম মোস্তফা। দীর্ঘদিন থেকে কেউ কারো মুখ দেখাদেখি নেই, রাজনীতির মাঠেও কোনো কর্মসূচিতে এক সাথে তাদের উপস্থিতি ছিল না। সুযোগ পেলেই একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগাঢ় করতেন। কখনো কখনো তা প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। সর্বদা নীরবে-প্রকাশ্যে চলছে একজন অন্যজনকে ল্যং মেরে দাবিয়ে রাখা এবং নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা। তাতে দলের বৃহত্তর ক্ষতিতেও তাদের কোনো পরোয়া নেই। এর প্রভাব পড়ে মাঠ পর্যায়েও। মিনু -নাদিম সমর্থকরা প্রকাশ্যেই পরস্পরের বিরুদ্ধে দুই নেতা সম্পর্কে কুৎসা রটনা ও কটুক্তিতে সর্বদা সরব ছিল। এ কারণে ‘রাজশাহীর মাটি বিএনপির ঘাটিতেও’ বিগত দিনে সরকার বিরোধী বড় ধরনের কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি। এমন কি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনেও আগের মতো মাঠ গরম নেই। ফলে রাজশাহীর বিএনপিতে অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি তারা। হাইকমান্ড এসব কিছু জেনেও অজ্ঞাত কারণে নীরব থেকেছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা চরম ক্ষুব্ধ হন। তবে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা দুই নেতার মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি বরাবরই উভয়ে কৌশলে এড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করতেন। এদিকে ঐ দুই নেতার বাইরে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এর ভিন্ন চিত্র- তারা জানান, এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই রাজশাহীর রাজনীতির মাঠ আগের মতো গরম হয়নি। কারণ একজনের ডাকে সাড়া দিয়ে কর্মসূচীতে অংশ নিলে অন্যজন রাগ করতেন, এমন কি পরোক্ষভাবে হুমকিও দিতেন। এতে বিব্রত মাঠ পর্যায়ের অনেক ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাকর্মী-সমর্থকরা। আবার অভিমান করেও বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেননি অনেকে। সঙ্গত কারণেই অনেক ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাকর্মী-সমর্থক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কায় বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া সবার মাঝে মেসেজ ছিল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি। যে কারণে রাজপথে বিএনপির খন্ডিত-বিখন্ডিত মিছিলে পুলিশ প্রশাসন বাঁধা দিয়ে সহজেই সফল হয়। এমন কি এক গ্রুপের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অন্যগ্রুপ দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাততালি দিয়ে বাহবা এবং উল্লাস প্রকাশ করতেও দেখা যেত। এসব কিছু দেখে পুলিশ প্রশাসন ও সরকার সমর্থকরা অন্যরকম আনন্দ উপভোগ করেছেন। এদিকে মহানগর ও জেলা শাখার দ্বন্দ্ব ছাড়াও জেলাতেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পৃথক গ্রুপ ছিল। মিজানুর রহমান মিনু ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যেও ঠান্ডা লড়াই চলছিল। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাদিম মোস্তফা জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু। দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তখন থেকেই বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন এই দুই নেতা। ১/১১ পট পরিবর্তনের পর নাদিম মোস্তফা আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসেই কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে কাউন্সিল না করেও জেলা বিএনপির সভাপতি হয়েছিলেন আর তখন এটা মানতে পারেন নি মিজানুর রহমান মিনু ও তার সমর্থকরা। ওই সময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে মিনু-নাদিমের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল। জেলা বিএনপিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তখন থেকেই করছিলেন নাদিম মোস্তফা। সেই বিরোধের সূত্র ধরে ইতোপূর্বে মিনু-নাদিমের পাল্টা-পাল্টি কুশপুত্তলিকা পুড়ানোসহ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘটনাও ঘটে। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে জেলা কমিটিতে দেখা দিয়েছিল অচলাবস্থা। প্রথম থেকেই সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল মনিরের মধ্যে মিল ছিল না। এমন কি পৃথকভাবে কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এ জন্য নাদিম জেলা বিএনপিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছিলেন মিনুর বিরুদ্ধে। তবে মিনু এসব অভিযোগ বরাবর ভিত্তিহীন ও মনগড়া দাবি করে আসছিলেন। জেলা কমিটির নাদিম বিরোধী নেতারা বলছেন- নাদিম অগণতান্ত্রিক উপায়ে কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেয়া নেতা। ফলে তাকে মেনে নেয়নি এখানকার বেশীর ভাগ নেতাকর্মী। এছাড়া নাদিম ডিক্টেটর হিসেবে দল চালানোর চেষ্টা করেন। ঘরে বসে পকেট কমিটি গঠন এবং ‘হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে লোক দেখানো কর্মসূচি পালন করে আবারো উধাও হন। এ প্রসঙ্গে জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির প্রবীণ নেতা অ্যাড. কামরুল মনিরের বক্তব্য ছিল, নাদিম স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে দল চালানোর চেষ্টা করেন। দলের কার্যক্রম সবার মতামতের ভিত্তিতে পচিালিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। রাজশাহীর মাঠ-পর্যায়ের নেতাকর্মী ও পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছিলেন, ওই দুই নেতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটানো গেলে কিংবা তাদেরকে কমিটির বাইরে রাখা গেলে রাজশাহীতে বিএনপি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ঘাঁটি হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী দিনে এখান থেকেই সরকার বিরোধী যে কোনো বড়ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মেটানো না গেলে সরকার বিরোধী আন্দোলনতো বটেই আগামী নির্বাচনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন সবাই। তাই কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড হস্তক্ষেপ করে এবার ওই দুই নেতাকে বাদ দিয়েই কমিটি গঠন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিকহী সম্পাদক অ্যাড. শাহীন শওকত বলেন, কেন্দ্রীয় হাইকমাণ্ডের সিদ্ধান্তে সবাই খুশি। আশা করা যায় মহানগর-জেলা বিএনপির কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেত্রী জাহান পান্না বলেন, নাদিম-মিনু উভয়কেই বাদ দেওয়ায় রাজশাহীর নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছেন। কারণ তাদের দ্বন্দ্বের কারণেই এতদিন রাজশাহীর বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এদিকে মিনু-নাদিমের সমর্থকরা এটা সহজভাবে নিতে পারছে না। তাদের কেউ কেউ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন, ‘ওনার কারণেই মিনু-নাদিম কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বড় পরিবর্তনের পরও রাজশাহী বিএনপির সঙ্কটের সমাধান হয়নি। নতুন করে নানা গ্রুপ-উপ-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে মিনু-নাদিম সব ধরনের কমিটি থেকে বাদ পড়ায় অনেকটাই গুরুত্ব হয়ে পড়েছেন। নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক তেমন একটা ভাল যাচ্ছে না। ফলে তারা অনেকটাই অলস সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এরপরও আগামী নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে মিনু এ রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুর থেকে নাদিম মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্টজনেরা।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর