বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র ১৪২৪, ২৩ জিলকদ, ১৪৩৮ | ০৫:২৯ অপরাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭ ০৬:০৮:০৭ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমছে ২০ হাজার কোটি টাকা

 

 

 

 

অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেছিলেন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। কিন্তু অর্থবছর যত শেষ হচ্ছে ঘাটতি ততই বাড়ছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। তাই চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। 

এ হিসাবে রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে প্রায় এক লাখ ৮৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রাথমিকভাবে এটি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআরের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যবসা পরিচালনায় সব প্রতিষ্ঠানকে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিন) নিবন্ধন নিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা মূল্য সংযোজন করের (মূসক) অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয় তাদের। কিন্তু নিবন্ধিত এসব প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশই ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করছে না। ফলে এ খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এনবিআর থেকে নিবন্ধন নেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১। এর বিপরীতে সর্বশেষ অর্থবছরে ভ্যাট পরিশোধ করেছে মাত্র ৩১ হাজার ৯৯৭টি প্রতিষ্ঠান। কয়েক বছর ধরে গড়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট পরিশোধ করছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রাজস্ব আদায়ের যে বড় লক্ষ্যমাত্রা আমরা এনবিআরকে দেই, সেটি থেকে তারা কিছুটা কম আদায় করে। তাই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হতে পারে। তবে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের যে প্রবৃদ্ধি তা সন্তোষজনক।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ তিন হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আহরিত হয়েছে (সাময়িক) ৯৪ হাজার ২৯৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯১ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল ৭৯ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। হিসাব অনুসারে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায় প্রথমদিকে কম থাকলেও শেষ দিকে বেড়ে যায়। এরপরও অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের পর্যবেক্ষণ করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধনের প্রাথমিক একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে অর্থাৎ মার্চের শেষে কোন্ খাত থেকে কত কমানো হবে, তা চূড়ান্ত করা হতে পারে। 

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করে। কারণ বিনিয়োগ না বাড়লে উৎপাদন বাড়ে না। পণ্য উৎপাদন না হলে সরকারের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ করা যায় না।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা হলো দুই লাখ তিন হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি, মূসক বা ভ্যাট থেকে ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি এবং আমদানি-রফতানি পর্যায়ের শুল্ক থেকে ৫৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা আদায়।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর