সোমবার, ২৭ মার্চ ২০১৭, ১৩ চৈত্র ১৪২৩, ২৮ জমাদিউস সানি, ১৪৩৮ | ১২:৫২ পূর্বাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭ ০২:৪২:৫৪ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

উৎসবের আমেজ, আছে ভয়ও

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ। কী হবে ৩০ মার্চ? কে জিতবেন—বিএনপির মনিরুল হক, না আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা? 

এ নিয়ে কুমিল্লায় সরগরম আলোচনা। মুদি দোকান থেকে চায়ের আড্ডা, বিপণিবিতান থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস—সবখানে মানুষ এখন সিটি নির্বাচন নিয়েই কথা বলছে। জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছে। নির্বাচনী পরিবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। তফসিল ঘোষণার পর তেমন অঘটন ঘটেনি। বিএনপির একজন কর্মীকে হয়রানি, গ্রেপ্তারসহ আরও কিছু অভিযোগ ওঠায় সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ১৮ মার্চ তিনজন নির্বাচন কমিশনার প্রার্থী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এরপরও শঙ্কা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে কী হয়। 
পাঁচ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আফজল খানকে ২৯ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির মনিরুল হক। যদিও নির্দলীয় সেই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় সেবারে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। এবারে পুরোপুরি দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন। নৌকা বনাম ধানের শীষ। 
নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা তো বটেই, কেন্দ্রীয় নেতারাও দলে দলে কুমিল্লায় গিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারকাজে। নিজ দলের প্রার্থীসহ নেতারা প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন। উঠোন বৈঠক করছেন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে একটি বড় ধরনের শোডাউন করা হয়। বিএনপি এ নিয়ে আপত্তি করলেও আওয়ামী লীগ বলেছে, এটি কোনো নির্বাচনী সভা ছিল না। জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান ছিল।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে আজ সোমবার বিকেলে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। ছবি: এমদাদুল হককুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে আজ সোমবার বিকেলে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। ছবি: এমদাদুল হককুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকগুলো বিষয়ের ওপর এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ভর করছে। প্রথমত, দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্য; দ্বিতীয়ত, দলের সমর্থকদের বাইরের ভোট বেশি টানতে পারা। তৃতীয়ত, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারের অবস্থান। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুমিল্লায় নারী ভোটার পুরুষদের চেয়ে বেশি। মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২ হাজার ৪৪৭ জন। চতুর্থত, প্রার্থীর দলের জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। 
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে মাইকিং ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী সভা করলে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্বাচনী সভা এখনো করেনি। দুই পক্ষই ঘরে ঘরে গিয়ে গণসংযোগকে ভোট চাওয়ার প্রধান কৌশল হিসেবে নিয়েছে। নির্বাচনী সভা করলেও শেষের দিকে। তার আগে ২১ মার্চ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। এর দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হকও ইশতেহার দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। 
কী থাকবে সেই নির্বাচনী ইশতেহারে? প্রথম আলোর প্রতিনিধি দুই প্রার্থীর সঙ্গেই কথা বলেছেন। দুজনই জানিয়েছেন, কুমিল্লাকে তাঁরা একটি আধুনিক, উন্নত, পরিবেশবান্ধব এবং যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

এক নজরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
আয়তন ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গকিলোমিটার।
ওয়ার্ড: ২৭টি ।
সংরক্ষিত নারী আসন: ৯টি।
মেয়র প্রার্থী: ৪ জন।
কাউন্সিলর প্রার্থী: ১০৪ জন।
নারী কাউন্সিলর প্রার্থী: ৪০ জন।
মোট ভোটার: ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬। 
নারী ভোটার: ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯। 
পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ২ হাজার ৪৪৭ জন।

[X]CLOSE

আরো খবর