বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭, ১৫ আষাঢ় ১৪২৪, ৪ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭ ০৬:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি চায় ভারত

নিজের স্বার্থের জন্যই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় ভারত। ভারতের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে সন্ত্রাসবাদ বা বিচ্ছিন্নবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা। এছাড়া বাংলাদেশে সমরাস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চায় ভারত। আগামী ৭ এপ্রিল দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসন্ন সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছে ভারতীয় সাংবাদিক সুবির ভৌমিক। তিনি বলেন, প্রথমত, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা এর লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, দিল্লি চাইছে ভারতের কাছ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় করুক বাংলাদেশ। বর্তমানে চীন থেকে এসব অস্ত্র বাংলাদেশ কিনছে। ভারত সেই জায়গায় ঢুকতে চাইছে। তৃতীয়ত, সন্ত্রাসবাদ বা বিচ্ছিন্নবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যৌথ অভিযান বা সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সুযোগ এই চুক্তির মধ্যে ভারত রাখতে চাইছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে ২৫ বছর। আর এ আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার বা চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে ভারত। সুবির ভৌমিক বলেন, বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারতের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সেভাবে এগোয়নি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের দু’টি সমস্যা রয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ, অপরটি চীন। এটা মাথায় রেখেই বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে ভারত। এতে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে ভারতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি জড়িত। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু বলছেন না। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা ইস্যুটি থাকতে পারে। প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের কাছে। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। শহীদুল হক বলেন, সফর হলে জানতে পারবেন কী কী চুক্তি হলো। চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকগুলো (এমওইউ) যেহেতু আলোচনার মধ্যে রয়েছে, তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যথাযথ হবে না বলে আমি মনে করি। প্রতিরক্ষা বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রতিরক্ষা ইস্যুটি বরাবরই আলোচনার মধ্যে ছিল। আর যেসব বিষয়ে আলোচনা চলছে সেগুলো নিয়ে এমওইউ হবে, চুক্তি নয়। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে ফোর্সেস গোল (প্রতিরক্ষা লক্ষ্য) ২০৩০ নির্ধারণ করে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমরাস্ত্র ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে সামরিক বাহিনীতে। সম্প্রতি চীন থেকে দু’টি সাবমেরিন কিনেছে বাংলাদেশ। সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যাপারে মেজর জেনারেল (অব:) জামিল আহসান জানান, প্রতিটি দেশের নিজস্ব নীতি থাকে। সেই নীতি কার্যকর করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা থাকে। এ বিষয়গুলো গোপন ব্যাপার। প্রতিরক্ষা চুক্তি যেমন স্পর্শকাতর, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কও স্পর্শকাতর। আর রাজনৈতিক মাঠ গরম করার জন্য এটা একটা ইস্যুও বটে। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, আমাদের দেশের রাজনীতি, ভালো-মন্দ থাকা ভারতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে, সমঝোতাও হবে। তবে দুই দেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েই এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে। দিল্লিতে এ ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর