শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ১৫ বৈশাখ ১৪২৪, ১ সাবান, ১৪৩৮ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০১৭ ০৪:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

ছায়ানীড়ের পর প্রেমতলার আস্তানায় সোয়াত, থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে

 

 

 

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর শহরে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর পাশের ওয়ার্ড প্রেমতলার আস্তানায় অভিযান চালাতে শুরু করেছে সিএমপির সোয়াত এবং জেলা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম।

 

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সড়ক থেকে কয়েকশ গজ দূরে আস্তানার দিকে প্রবেশ করতে দেখা যায় পুলিশকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রেমতলার আস্তানাটি ঘিরে রেখেছে সিএমপির সোয়াত বাহিনী। সেখানে থেমে থেমে উভয়পক্ষে গোলাগুলি চলছে বলে জানা যাচ্ছে। জঙ্গিরা বোমাও নিক্ষেপ করছে। অন্যদিকে আস্তানাটিতে রাতের যে কোনো সময় চূড়ান্ত অভিযান চালাতে সোয়াতের বিশেষ টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

অভিযানে অংশ নিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন র‌্যাব-বিজিবি ও সোয়াত সদস্যরাও। সিএমপি পুলিশের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এরা নব্য জেএমবির সদস্য।

 

এর আগে, দুপুরে চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড় ভবনের নিচতলায় ওই আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে তাদের উপর তিনটি হাতবোমা ছুঁড়ে মারে জঙ্গিরা। এতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল সহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। 

 

বাড়িওয়ালার কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে পৌর এলাকার নামার বাজার ওয়ার্ডের আমিরাবাদ এলাকায় দোতলা সাধন কুটিরের নিচতলায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়।

 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (উত্তর) মসিউদ্দোল্লাহ রেজা জানিয়েছেন, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ জসিম ও আর্জিনা নামের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যে পাশের প্রেমতলা ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ার ‘ছায়ানীড়’ নামের আরেকটি দোতলা বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নামার বাজারের ওই বাসায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সুইসাইড ভেস্ট পাওয়া গেছে। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সেখানে কাজ করছে।

 

প্রেমতলার বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে সেখানে অভিযান চলছে।

 

পুলিশ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পরিদর্শক মোজাম্মেল। তিনি ছায়ানীড়ের গেইটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোতলা থেকে গ্রেনেড চার্জ করে। বিস্ফোরণে পায়ে আঘাত পেয়ে তিনি পড়ে যান। পরে ওসি ইফতেখার হাসানের নেতৃত্বে আরেকটি দল এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলে বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

ওই এলাকার কাউন্সিলর মুরাদ হোসেন জানান,পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে থেকে ওই বাড়ি থেকে জঙ্গিরা সাত থেকে আট টি গ্রেনেড ছুড়েছে।

 

তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সোয়াট সদস্যরা ওই বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেন এবং চারপাশে রেকি করা শুরু করেন। পরে ওই বাড়ি ঘিরে তীব্র আলোর ব্যবস্থা করা হয়।

 

যে কোনো সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর মুরাদ হোসেন।

 

ওই বাড়ির মালিক সুভাষ চন্দ্র দাশ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, জসিম নামের এক ব্যক্তি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাপড়ের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি ইউনিট ভাড়া নিতে চায়।

 

ভাড়ার কথা হওয়ার পর সুভাষ পুলিশের তথ্য ফরম পূরণের জন্য ওই ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে বলি। ওই ব্যক্তি ২ মার্চ যে এনআইডির কপি দেন, সেখানে নাম লেখা ছিল কেবল জসিম, সঙ্গে রামুর একটি ঠিকানা।

 

তিনি জানান, এর মধ্যে জসিম মালপত্র ও পরিবার নিয়ে ১২ মার্চ বাসায় আসেন। পরদিন ওই বাসায় গিয়ে ‘প্রচুর সার্কিট ও গোলাকার ধাতব বস্তু’ দেখে আমার প্রশ্ন জাগে।

 

তখন আমি তার কাছ থেকে সার্কিটের নমুনা নিয়ে স্থানীয় এক মেকানিককে দেখাই। সে জানায়, এগুলো টাইম কার্ড।

 

এরপর বুধবার ওই এনআইডি নিয়ে স্থানীয় একটি কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে জানতে পারি সেটি ভুয়া।

 

সুভাষ জানায়, এরপর আমি বাড়ি ফিরে জসিমদের বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলি। কথা কাটাকাটির মধ্যে একজোড়া বুট জুতার মধ্যে ‘পিস্তল দেখে’ চিৎকার দেই।

 

পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জসিম ও আর্জিনাকে আটক করে এবং ওই নারীর কোমরে বিস্ফোরক রাখার বেল্ট পান।

 

পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ওই দম্পতিকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রেমতলার জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায়।

 

ওই দম্পতির তিন মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে বলে জানান ওই বাড়ি ওয়ালা।

 

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর