রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি


বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আজ চুক্তি সই

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোয় দুই দেশের সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ে দিনভর বৈঠকের পর সন্ধ্যায় এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চির সাথে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের পর চুক্তিটি সই হবে। প্রত্যাবাসন চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নেইপিডোয় সদ্য সমাপ্ত আসেম বৈঠকে ইউরোপ ও এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তি সইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের জোরালো সমর্থক চীন উদ্বাস্তু সঙ্কট নিরসনে যে তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে, প্রত্যাবাসন চুক্তি তার অন্যতম। গতকাল সকালে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে যোগ দেন। সকাল থেকে মধ্যাহ্নভোজের আগ পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। মধ্যাহ্নভোজের পর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আর মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সু চির দফতরের ইউনিয়ন মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। দুই মন্ত্রীর দীর্ঘ একান্ত বৈঠকের পর বিকেলে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠক শেষে ‘রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবাসন’ চুক্তি চূড়ান্ত হয়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। নেইপিডোয় অবস্থানরত ইউএনবির প্রতিনিধিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই চুক্তি সই হবে বলে আশা করছি।’ সোয়ে গত ২ অক্টোবর ঢাকা সফর করে গেছেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে তার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চুক্তির একটি খসড়া সোয়ের হাতে তুলে দেয়। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ১৯৯২ সালের বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ঘোষণার আলোকে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর পর দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খসড়া ছয় দফা বিনিময় হয়। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মতামতের দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। নেইপিডো বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায়। এ সময়ের মধ্যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তবে বাংলাদেশ চাইছে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকেই মিয়ানমার ফিরিয়ে নিয়ে যাক, যার সংখ্যা ১০ লাখ ছড়িয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। মিয়ানমার এককভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করতে চায়। আর বাংলাদেশ পরিচয় যাচাইসহ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অন্তর্ভুক্তি চায়। ১৯৯২ সালের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইউএনএইচসিআরের ভূমিকা ছিল। মিয়ানমার শর্ত দিয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হলে বাংলাদেশ এ ইস্যু নিয়ে অন্য কোনো দেশ বা ফোরামে আলোচনা করতে পারবে না। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সমস্যাটি কেবল দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করতে হবে, এর আন্তর্জাতিকীকরণ করা যাবে না। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ এ শর্ত মানতে নারাজ। প্রত্যাবাসনের পর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাড়িতে থাকতে দেয়ার সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমার বলছে, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ায় তাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে। বাংলাদেশের প্রস্তাব হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে আশ্রয় শিবিরে রাখা যাবে না। বাড়িঘর পুড়ে গেলে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা পর্যন্ত তাদের আদি নিবাসের কাছাকাছি থাকতে দিতে হবে। বাংলাদেশের অন্যতম দাবি হচ্ছে, সময়সীমাভিত্তিক প্রত্যাবাসন। অর্থাৎ চুক্তি সইয়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউসি) গঠন করে এর কর্মপরিধি ঠিক করা হবে। প্রত্যাবাসন শুরুর আগে জেডাব্লিউসি একটি সমঝোতা স্মারক সই করবে। এতে প্রতিদিন কতজন রোহিঙ্গা সীমান্তের কোন পথে যাবে এবং রাখাইনে কোথায় থাকবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।





আরো খবর