শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৫ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ১১:১১ পূর্বাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি


সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সরাসরি সম্প্রচার

ঢাকা: হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশের বক্তব্য টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার। এতে অদৃশ্য হাতের ইশারাকে দায়ি করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রথমে বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করতে শুরু করেছিল, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে হঠাৎ করেই তা বন্ধ করা দেয়া হয়। শায়রুল কবির খান বলেন, আমাদেরকে টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন তারা বেগম জিয়ার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করবেন। সে ধরনের সব প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তারা এবং কয়েকটি চ্যানেল বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা শুরুও করেছিল। কিন্তু তার পর দেখলাম কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেয়া হলো। এটা খুবই দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটা বুঝাই যাচ্ছে সরকারের ইশারায় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। কারণ দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীর বক্তব্য দেশের টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করতে পারবে না, সেখানে গণতন্ত্র কোথায়? তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও একটি অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সরকারকে গণতান্ত্রিক আচরণ করার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবো না: খালেদা বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রবিবার ঢাকায় এক জনসভায় বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। রবিবার ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এক জনসভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার’ গঠন করে তার অধীনে নির্বাচনের কথা বলেন। খবর বিবিসর। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুণ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে কারণ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবে না’- বলেন খালেদা জিয়া। তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তাদেরই। খালেদা জিয়া বলেন, আগামী নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং তাদের বিচারিক ক্ষমতা বা ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারও’ দিতে হবে। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও বলেন খালেদা জিয়া। ‘ইভিএম বন্ধ করতে হবে, ইভিএম আমরা চাই না’ - বলেন তিনি। প্রায় দু’বছর পর ঢাকায় কোন জনসমাবেশে ভাষণ দিলেন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন যে সভায় যাতে লোক আসতে না পারে তাই সরকার পরিকল্পিতভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না: খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবেও না। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের কথায় কান না দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনে লক্ষ্যে ভূমিকা রাখুন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো ইভিএম ব্যবহার করা চলবে না। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার। মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম হত্যা করছে। তাদের ওপর নানা রকম জুলুম করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গুম, খুন ও নির্যাতন বেড়ে গেছে। তারা দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনগণ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। আর সেই মুক্তির লক্ষ্যেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। তিনি এও বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী লীগের জুলুম ক্ষমা করে দেয়া হবে। কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বিচারবিভাগকে পুরোপরি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই অন্যায়ভাবে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং তা করা হয়েছে বিদেশে সরকারের এজেন্সির লোক পাঠানোর মাধ্যমে। এ কারণে তিনি দেশে আসতে পারেননি। ফলে দেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারি চাকরিজীবীদের ভয় দেখাচ্ছে। তারা বলছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি চলে যাবে। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কারো চাকরি কেড়ে নেবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা দেখা হবে। কারো চাকরি খাওয়া হবে না। এবিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে- বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ হত্যা করবে। আমরা মানুষ হত্যা করি না, মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ। এটা আওয়ামী লীগের কাজ, বিএনপির নয়। এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাবেশ সফল যেন না হয় এজন্য অনেক বাধা দেয়া হয়েছে। এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে পৌঁছাতে না পারি এজন্য গুলশানে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, এই হলো সরকারের অবস্থা। এরা যে কত ছোট মনের তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। এ জন্য বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ছেলেদের প্রতিনিয়ত সরকার জেলে পুড়ছে। এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌছালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সমাবেশস্থল। এর আগে রবিবার দুপুর ২টার পর গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা দেয় বলে জানান বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান। প্রায় দুই বছর পর প্রকাশ্য সমাবেশে খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফলরুলসহ দলের সিনিয়র নেতারা আগেই বলেছেন, এই সমাবেশে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেবেন। এদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানী ঢাকামুখী বাস চলাচল আজ সকাল থেকে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল অভিযোগ, ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যাতে নেতাকর্মীরা আসতে না পারেন, তার জন্যই যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে কোনো কাজ হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা। ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন যাত্রীরা। বাইরে থেকে আসা গাড়ি যাত্রীশূন্য করে সড়কে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্য সময় বাস না চললেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো বা লেগুনা চলাচল করে থাকে। সকাল থেকে এগুলো পাওয়াও কঠিন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এদিকে রাজধানী ও আশপাশের জেলাশহরে থমকে গেছে জনজীবন। সর্বত্রই যেন অঘোষিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট চলছে।





আরো খবর