সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২ সফর, ১৪৩৯ | ০১:৩০ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭ ০১:২৪:৪০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

ছাত্রী আত্মহনন মামলায় আ.লীগ নেতা ও ছেলের আত্মসমর্পন

বগুড়া: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর মণ্ডলপাড়ার নবম শ্রেণির মেধাবী স্কুলছাত্রী রোজিফা আকতার সাথীর (১৫) আত্মহননে প্ররোচনা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মীর আমিনুর রহমান ও তার ছেলে বখাটে হুজাইফাতুল ইয়ামিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। বগুড়ার চতুর্থ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আগামী ১৫ অক্টোবর এ ব্যাপারে শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে গত ৪ দিনেও পুলিশের কাছে ছিনিয়ে নেয়া ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়নি। সাথীর পরিবার আদালতের কাছে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, জিয়ানগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম তালুকদার আসামি ও ওয়াকিটকি ছিনতাই, তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা, পুলিশকে মারধরের ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে জিয়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম পুলিশের এ অভিযোগ দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় আসামিরা আত্মসমর্পণ করেছে। এছাড়া পুলিশের ওয়াকিটকি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগে জানা গেছে, জিয়ানগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মেয়ে সাথী জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল। স্কুল ও কোচিংয়ের যাতায়াতের পথে ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর আমিনুর রহমানের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী হুজাইফাতুল ইয়ামিন তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও আমিনুনের কাছে নালিশ করা হলেও তারা ব্যবস্থা নেননি। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর কোচিং থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে ইয়ামিন তার হাত ও ওড়না ধরে টানাহেঁচড়া করে। সাথী স্কুলে না গিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরে ক্ষোভে-দুঃখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সন্ধ্যায় বাবা গোলাম রব্বানী দুপচাঁচিয়া থানায় ইয়ামিন ও তার বাবা আমিনুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। রাতে পুলিশ বজরাপুকুর এলাকা থেকে আসামি মীর আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এসআই আবদুর রহিমের কাছ থেকে তার ওয়াকিটকি এবং আসামি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ থানায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ বুধবার বিকেল পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেফতার করে। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, তাদের তৎপরতার মুখে বখাটে ইয়ামিন ও তার বাবা আমিনুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার চতুর্থ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করায় সাথীর বাবা ইউনিয়ন জাপা নেতা গোলাম রব্বানী স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, আদালত যেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন। তাদের মতো বখাটের কারণে আর যেন কোনো বাবা-মার বুক খালি না হয়। তিনি আরও বলেন, কলিজার টুকরা সাথীর মৃত্যুতে আমার হৃদয়টা পাথরচাপা পড়েছে। জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এ পাথর সরবে না। আর আদালত বিচার না করলে আমি নিজে হাতে তাদের বিচার করব।

আরো খবর