সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২ সফর, ১৪৩৯ | ১১:২৪ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭ ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নড়িয়ায় নিহত যুবলীগ নেতার শরীরে ৬২ গুলির চিহ্ন

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে নিহত যুবলীগের নেতা ইকবাল হোসেনের শরীরে ৬২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ । গুলিবিদ্ধ ১০ ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর শনিবার বাদ আছর জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন পোদ্দার বলেন, ইকবালের শরীরে ৬২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিগুলো শটগানের ছিল বলে ধারণা করছি। বেশিসংখ্যক বুলেট বিদ্ধ হওয়ায় রক্তক্ষরণ হয়েছে, এ কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নড়িয়া থানা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন গাজীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের আয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত বিরোধ চলে আসছে । গত শুক্রবার আছরের নামাজের পর জাকির গাজীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে দাদন মীর মহর ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালতের সমর্থক রাজনগর ইউনিয়নের আন্ধার মানিক বাজারের দাদন মীর মালত, নুরুল ইসলাম মীর মালত ও সোহাগের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন গাজির সমর্থক সম্রাট গাজি ও সাগর সরদারের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালত ও মালেক ফরাজীর বাড়ী ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর বিকাল ৬ টার দিকে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দাদন মীর বহর ও আলী উজ্জামান মীর মালতের সর্মথক রাজনগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ইকবাল হোসেন (মাইকেল) ফকির (২৫) গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত ও ২৫ জন গুলীবিদ্ধসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়। স্থানীয় লোকজন ইকবালকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর শুক্রবার রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে সিরাজুল মোল্যা, সোহাগ বেপারী, জাহাঙ্গীর মীর বহর, পারভেজ বেপারী ও নিরবকে আটক করে পুলিশ। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মজিবর মীরমালত ও সাগর মীর মালতসহ ৬জনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘাত এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ দিকে নিহত ইকবালের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। নিহতের স্ত্রী তার ৪ বছরের অবুঝ শিশু শ্রাবন্তী ও ৮ মাসের জিহাদকে নিয়ে স্বামীর জন্য বিলাপ করছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত হত্যার ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে মামলার প্রস্তুতি চলছে । নিহত ইকবাল হোসেন ফকিরের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেন, আমার স্বামী আন্দার মানিক বাজারে যাওয়ার সময় সাগর সরদার, সম্রাট গাজি, শাহজাহান মাদবররা গুলী করে হত্যা করেছে। আমি এখন আমার এ অবুঝ শিশু সন্তানদের নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাসিঁ চাই। নিহতের মা মাসুদা বেগম বলেন, জাকির গাজির লোকেরা দাদন মীরমালতের দোকান লুট করেছে শুনে আমার ছেলে ইকবাল ফকির সেখানে দেখতে যাচ্ছিল। এ সময় আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে জাকির চেয়ারম্যানের লোকজন। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে। এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তার প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরো খবর