রোববার, ২৩ জুলাই ২০১৭, ৮ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ ১০:১৮:১৫ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

এটিএম কার্ড জালিয়াতি, গ্রাহককে হয়রানি করছে রূপালী ব্যাংক

ঢাকা: এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহককে হয়রানি করছে রূপালী ব্যাংক। গ্রাহকের দাবি ব্যাংকের কর্মচারিরা কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেরা টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো গ্রাহকের কাছে টাকা দাবি করছে। হয়রানি থেকে বাঁচতে গ্রাহক ব্যাংকের কাছে হিসাব বিবরণী চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠালেও ব্যাংক সেটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জানা গেছে, জাকী আহমেদ নামে একজন গ্রাহকের কাছে রূপালী ব্যাংক জমার অতিরিক্ত ৭৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০০ টাকা ফেরত দিতে বলেছে। ৩টি এটিএম কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক জমার অতিরিক্ত অর্থ বুথ থেকে উত্তোলন করেছে বলে দাবি ব্যাংকটির। তবে বিশেজ্ঞদের মতে, এটিএম কার্ডের মাধ্যমে কোনোভাবেই জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের গ্রাহকরা এটিএম কার্ড ব্যবহার করে দৈনিক ৫০ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করতে পারে না। এছাড়া গ্রাহকদের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক লেনদেন হিসাব মেলানোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসার কথা। কিন্তু এ প্রক্রিয়া যদি দুই বা তিন বছর যাবৎ চলে আসে তাহলে ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ধরা না পড়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এটি ব্যাংকের ভেতরের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এভাবে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। যদি যান্ত্রিক ত্রুটিতে এ ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসা স্বাভাবিক। আর যদি এটি নাই আসে তাহলে অচিরেই এর প্রতিকার খুঁজে বের করে সাধারণ জনগণকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে জাকী আহমেদকে অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে আইনি নোটিশ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক। তবে গ্রাহককে ব্যাংকটি কোন দালিলিক কাগজ দিতে পারেনি। জানা যায়, জাকী আহমেদ ১৯৮২ সাল থেকে রূপালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় ৩টি হিসাব পরিচালনা করে আসছেন। তিনটি হিসাব নং যথাক্রমে জাকী আহমেদ (হিসাব নং-১০০০৮৮৫৪৮ ও এটিএম ন-১৪০০ ০০০০ ৩৪০০০১৯৪, মাসিক দোয়েল হিসাব নং-২০০০৮০২৯৪ ও এটিএম নং-১৪০০ ০০০০ ৩৪ ০০১৭৫৪ এবং মেসার্স দোয়েল হিসাব নং-২০০০৭২৩৯৬ ও এটিএম নং-১৪০০ ০০০০৩৪০০০ ২০২)। গ্রাহকের দাবি ২০১৩ সাল থেকে এই হিসাবগুলোতে কোন লেনদেন হয়নি। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ ব্যাংকটির মতিঝিল কর্পোরেট শাখার উপ মহাব্যবস্থাপক খান ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে দাবি করে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড রূপালী ব্যাংকে জানিয়েছে জাকী আহমেদ এটিএম কার্ড ব্যবহার করে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জমার অতিরিক্ত ৭৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলন করেছেন। তাই ৭ দিনের মধ্যে গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে অনুরোধ করে। এর জবাবে ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ জাকী আহমেদ তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ব্যাংক প্রদত্ত লেনদেন সংক্রান্ত স্টেটমেন্ট মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় (ব্যাংকের দাবির আলোকে) সংশ্লিষ্ট লেনদেনের দলিলাদিসহ স্টেটমেন্ট প্রেরণের অনুরোধ করেন। কিন্তু ব্যাংক এতে কোনো সাড়া দেয়নি। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল জাকী আহমেদ আর্থিক হয়রানির প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইনট্রিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি) আবেদন করেন। তবে গ্রাহক এই ডিপার্টমেন্ট থেকেও কোন প্রতিকার পায়নি। এদিকে রূপালী ব্যাংক ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল একই দাবি নিয়ে জাকীর আহমেদকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। ২২ এপ্রিল জাকী আহমেদ লিগ্যাল নোটিশের জবাবে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং ৭ কর্মদিবসে ব্যাংকের দাবির পক্ষে আবারও গ্রহণযোগ্য দালিলিক সাক্ষ্যসহ উপস্থাপন করতে লিগ্যাল নোটিশ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় যদি তারা এটি দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মচারি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেন গ্রাহক। তবে জাকী আহমেদের লিগ্যাল নোটিশের নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক দালিলিক সাক্ষ্যসহ যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছে হয়। জানা গেছে রূপালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তির আলোকে ব্র্যাক ব্যাংক সহ রূপালী ব্যাংকের গ্রাহকরা রূপালী ব্যাকের বুথ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। তবে সেটিও এটিএম কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং কোনোভাবেই জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন একটি জালিয়াতির চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘটনা ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সেটি এখন গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চক্র জড়িত রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর