রোববার, ২৩ জুলাই ২০১৭, ৮ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৪:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

২০২১ সালে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে উদ্‌যাপন করবে : ভারতীয় হাইকমিশনার

ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন যেন দুই পক্ষের জন্য সুফল বয়ে আনে আর টেকসই হয়, সে ব্যাপারে ভারতের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। আর দুই দেশের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তি দুই দেশের জনগণ। তিনি রোববার প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ মন্তব্য করেন। প্রথম আলোর কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়ের শুরুতে ভারতের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। এরপর হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বক্তব্য দেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রথম আলো শক্তিশালী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিকাশের জন্য সংবাদ, বিশ্লেষণধর্মী লেখা, সাক্ষাৎকার প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের একটি স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব সময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। কখনো কখনো আমাদের অবস্থানের সঙ্গে সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষ একমত হতে পারেনি। দুই দেশের ভারসাম্যমূলক সম্পর্কের স্বার্থেই আমরা এটি করেছি, ভবিষ্যতে এই ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। কারণ, নানা বিষয়ে যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তোলাই গণমাধ্যমের কাজ।’ ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রায় নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের স্বার্থের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন যে ভারতের জন্য জরুরি কিংবা অন্যভাবে বললে একের উন্নতি অন্যের জন্য অপরিহার্য, এ বিষয়ে আমাদের দেশে ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের উন্নতি না হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অগ্রগতি হবে না।’ হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা হচ্ছে, সম্পর্কটা যাতে টেকসই এবং দুই পক্ষের জন্য সহায়ক হয়। এই সম্পর্কের ভিত্তি হবে দুই দেশের জনগণ।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির পরিমাপক হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ ক্ষেত্রে তিনি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময় এবং সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির প্রসঙ্গ টানেন। শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওই সফরে উন্নত প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের কোনো সফরে ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই এটাই প্রথম। তৃতীয় ঋণচুক্তিতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পর তিন ধাপে ঋণ চুক্তিতে বাংলাদেশকে আট বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাত্রা ও গভীরতা বোঝাতে বেশ কয়েকটি জরিপের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। একটি জরিপে ভারতের ৬৫ শতাংশ জনগণ বাংলাদেশকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম আলোর সাংবাদিকদের সঙ্গে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও তাঁর সহকর্মীরা। ছবি: আবদুস সালামহর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের কিছু উদ্যোগ, বিশেষ করে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে একাত্তরে আত্মোৎসর্গকৃত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া ভারতের জনগণকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচিত্র নির্মাণ ও ২০২১ সালে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে উদ্‌যাপনের কথা উল্লেখ করেন। ভারতের ভিসা প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের লোকজনের কাছে প্রতিনিয়ত শুনেছি, অনলাইনে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আর সেটা নেই। আবেদনপ্রার্থী যে দিনই আবেদন করতে চান, সেদিনই ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যটকদের এক বছরের মাল্টিপল, ব্যবসায়ীদের পাঁচ বছরের, মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের পাঁচ বছরের ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি শনিবার পরিবারের পক্ষে নারীরা শ্যামলীর ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে আবেদন জমা দিতে পারছেন।’ তবে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুধু এ বছরই জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ১৩ লাখ লোক ভারত গেছেন। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশের হতাশা আছে—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতির উল্লেখ করেন। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘কোনো একসময়ে এটির সুরাহা হয়ে যাবে। আন্তরিকতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে, এটি কবে সই হবে, তা আমার পক্ষে বলা ঠিক হবে না।’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যেকোনো প্রয়াসে সহযোগিতা চাইলে ভারত সানন্দে পাশে দাঁড়াবে। বিশেষ করে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে। তবে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট: নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়। প্রতিবেশী হিসেবে, বন্ধু হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে একটি সফল গতিশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চাই। পঁচাত্তরের পর থেকে দীর্ঘ সময়জুড়ে এ দেশে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এখন গণতান্ত্রিক ধারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে।’ হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এ দেশের তরুণ প্রজন্ম। জনসংখ্যার ৭০ ভাগের বয়স ৪০ বছরের নিচে। গণতান্ত্রিক নয়, এমন কোনো পদ্ধতি তাঁরা মেনে নেবেন না। প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সব সময় আমাদের শুভকামনা রয়েছে।’

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর