বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র ১৪২৪, ২৩ জিলকদ, ১৪৩৮ | ১১:২৪ অপরাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭ ০১:০৭:৩১ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সংসদে সরকারি দলের এমপিদের তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী

ঢাকা: প্রস্তাবিত ২০১৭-২০১৮ নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় খোদ সরকারি দলের সদস্য সদস্যদের তোপের মুখে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আজ সোমবার বাজেট আলোচনায় জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কঠোর ভাষায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার দায়িত্ব বাজেট পেশ করা। এই সংসদের ৩৫০ জন জনগণের প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, কোনটা থাকবে না। আপনি একগুঁয়েমি সিস্টেম বন্ধ করেন, কথা কম বলেন। আওয়ামী লীগের এই জ্যোষ্ঠ সংসদ সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রীর কিছু কথাবার্তায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অর্থমন্ত্রীকে কথা কম বলার পরামর্শ দিয়ে সেলিম বলেন, ‘আপনার বয়স হয়ে গেছে, কখন কী বলে ফেলেন ঠিক থাকে না। আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধীতা করে সেলিম আরো বলেন, এই সামান্য টাকার জন্য গোটা জাতির কাছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বাজেট নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নির্বাচনী বাজেট নয়। তাহলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কবে নির্বাচনী বাজেট দেবেন? হানিফ বলেন, আগামী বাজেট কার্যকর হবে জুলাইয়ে। তখন বর্ষা শুরু হবে। সেপ্টেম্বরে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গেলে অক্টোবরে নির্বাচনের তফসিল। এবারই নির্বাচনমুখী বাজেট করা উচিত ছিল। বলা যায়, অর্থমন্ত্রী এবার নির্বাচনবিরোধী বাজেট করেছেন। আবগারি শুল্ক আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানিয়ে হানিফ বলেন, অর্থমন্ত্রী কী কারণে, কার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক করেছেন, জানা নেই। তিনি বলেন, হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এ টাকা কিছু নয়। তাহলে কেন সামান্য টাকার জন্য সারা দেশে মানুষের মধ্যে আক্ষেপ তৈরি করলেন। ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন হানিফ। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ভ্যাট আরোপ করেছেন গণহারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এক বছরে ৩০ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট আরোপের নজির নেই। এটা যৌক্তিক নয়। ব্যাংক খাতে লুটপাটের অভিযোগ এনে হানিফ বলেন, বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হচ্ছে। কার টাকা কেন দিচ্ছেন? তাঁরা দুর্নীতির জন্য লুটপাট করবে আর মূলধন দিতে হবে আমাদের? প্রয়াজনে এই ব্যাংকগুলোর বিষয়ে নতুন করে চিন্ত করা হোক। সরকারি টাকা এভাবে লুটপাট করতে দেওয়া যাবে না। সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আল্লাহ তাঁকে (অর্থমন্ত্রী) সুযোগ দেবে কি না জানি না। কিন্তু যাদের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে, তারা যাতে নির্বাচন করতে পারে সেটা খেয়াল করতে হবে। সুদ এমনিতেই কম। এর ওপর শুল্ক বাড়ালে তা হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার না কমানোর দাবি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, ১০ শতাংশ বাড়ালে খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু উপকার পাবে লাখ লাখ মানুষ। এটা সিনিয়র সিটিজেনরা পান। তাঁরা কোথাও হাত পাততে পারে না। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের বিশাল লিস্ট দিছেন। কই, তাদের তো ধরতে পারেন না। ব্যাংকের টাকা পাচার বন্ধ করতে পারছেন না। আর নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে উদ্দেশ্য করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুতের উন্নতি হয়েছে ঠিকই। অনেক লাইন হয়েছে। কিন্তু রমজানের সময়, সাহরির সময় এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। এগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশে বসে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খানের উদ্দেশে আবুল কালাম বলেন, এই যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, পাঁচ–ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ যেভাবে হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আপনাকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর