রোববার, ২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২ রমজান, ১৪৩৮ | ০৬:২৮ অপরাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শনিবার, ১৩ মে ২০১৭ ০৭:০৭:২১ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

ক্ষমতাসীনরা শিক্ষা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে: খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সময়োপযোগী ও কল্যাণময়ী করতে এদেশের ছাত্রসমাজের অনেক ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু আজো শিক্ষাব্যবস্থায় জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি বলেন,শিক্ষা মানুষকে গণতন্ত্র ও ভিন্নমত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করছে। তারা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও আত্মতুষ্টির জন্য পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটিয়েছে। শিক্ষার সব উদ্দেশ্য আজ ভূলুণ্ঠিত। বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। এ অবস্থা কাটিয়ে না উঠতে পারলে জাতির সামনে অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে। শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ‘বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘আমি শিক্ষাবিদ না হলেও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে দেখেছি, শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা ভিশন ২০৩০ এ শিক্ষা নিয়ে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। ক্ষমতায় গেলে প্রথম পাঁচ বছরেই আমরা এসব বাস্তবায়ন করতে পারব না। তবে শিক্ষা খাতে জিডিপির শতকরা পাঁচ ভাগ ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অন্যান্য শিক্ষা সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’ বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের হাতিয়ার হবে না, হবে জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার হাতিয়ার। সব পর্যায়ে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জেন্ডার ও অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করা হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এখন একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ভিন্নতার সঙ্গে সমাজে বিরাজমান যে শ্রেণি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আছে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত। সমাজ যেখানে মাদ্রাসাশিক্ষার জন্য নিজেই অর্থের সংস্থান করে, সমাজের সুবিধাভোগীরা সেখানে ভিন্ন ধরনের শিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করে। প্রচলিত সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালে সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। দিনব্যাপী সেমিনারে উচ্চশিক্ষা ও প্রাগ্রসর শিক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষার দর্শন নিয়ে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে ছাড়া ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও শাহ শামীম আহমেদ, শিক্ষায় বিভিন্ন ধারা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মোট পাঁচটি প্রবন্ধ পাঠ হয়। সেমিনারে ৪টি অধিবেশনে (১) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, (২) শিক্ষার বিভিন্ন ধারা, (৩) উচ্চ ও প্রাগ্রসর শিক্ষা, (৪) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিষয়গুলোর ওপর দেশের বিভিন্ন পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ও কলেজের শিক্ষক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের প্রায় ৩০০ শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর