মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ সাবান, ১৪৩৮ | ০৬:৪২ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭ ০৪:১১:২৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মেয়র বুলবুল

দীর্ঘ ২৭ মাস পর দায়িত্ব নিয়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জে পড়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র ও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়া ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করাই তার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাসিকের একাধিক সূত্রমতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিজাম উল আযীমের সময় নগরীতে বাড়ানো হয় হোল্ডিং ট্যাক্স। দায়িত্ব নেয়ার দিনই সেই ট্যাক্স বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি তিনি। এ নিয়ে হতাশ নগরবাসী। অপরদিকে, নিজাম উল আযীম দায়িত্বে থাকাকালে নগরীর উন্নয়নে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়। এ ছাড়া নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে সম্প্রতি সরকার আরো ১৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। এসব প্রকল্প নিজামের সময় নেয়া হয়। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ছাড়াও বুলবুলকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরো নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে। সিটি মেয়রের পাশাপাশি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর বিএনপি সভাপতি। প্রায় দুই বছর পর মেয়র হিসেবে তার ফিরে আসায় দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। মেয়রের দপ্তর থেকে শুরু করে অন্য দপ্তরগুলোতে অন্য দলের কর্মী ছিলেন, তাদের বাদ দেয়ার দাবি উঠেছে দলের ভিতর থেকে। সেই সঙ্গে ওই পদগুলোতে দলীয় কর্মীরা নিয়োগ পেতে চান। এ ছাড়া ঠিকাদারি কাজও বাগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি সমর্থক ঠিকাদাররা। হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর দাবিতে আন্দোলনরত অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ জানান, বুলবুল তাদের আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। দায়িত্ব পেলে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত সে ঘোষণা না আসায় তারা হতাশ বলেন মুরাদ মোর্শেদ। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, দলের কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে তার কাছে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা বেশি থাকে। রাজশাহীতে একমাত্র বুলবুলই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। ফলে তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি। কিন্তু দলের কর্মীদেরও মনে রাখতে হবে, মেয়র চাইলেই সবকিছু করে দিতে পারেন না। সরকার তাকে আদৌ কোনো সহযোগিতা করছে কি না সেটিও দলের কর্মীদের দেখতে হবে। চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে নেতাদের দূরত্ব বাড়ে। কর্মীরা যদি সেটি অনুধাবন করতে পারে, তাহলে বুলবুল তার কাজ সঠিকভাবে করতে পারবেন। মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, হোল্ডিং ট্যাক্স যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, এর বিপক্ষে অবস্থান তার। তবে ট্যাক্স কী পর্যায়ে কমিয়ে সহনীয় করা যায় এ নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন। বুলবুল বলেন, পাঁচ বছরের সব সমস্যা আগামী ১৫ মাসের মধ্যে সমাধানে উদ্যোগ নেব। সরকার আমাকে সাহায্য করলে আমি অসমাপ্ত সব কাজ করতে পারব। যে ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছি, তখনো সহযোগিতা পেয়েছি। তাই ভবিষ্যতেও সরকারের সহযোগিতা পাব বলে আশা রাখি। মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, দলের কর্মীদের চাপ থাকবে। সেটি কাটিয়ে উঠে তিনি নগরীর উন্নয়নে কাজ করতে চান। কর্মীরা তাকে ভুল বুঝবে না বলেও মনে করেন তিনি। মেয়র বলেন, ‘আমি চাই সিটি করপোরেশনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। গত দুই বছরে নিয়ম ভেঙে সিটি করপোরেশনে একটা অচলাবস্থার তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ মাসে এ অচলাবস্থার অবসান করা হবে। আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেন বুলবুল।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর