রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি


বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:১৫:০১ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

শরীয়তপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক নিহত

শরীয়তপুরের সখিপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম দেওয়ান (৩২) নামের একজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরো অন্তত আরো ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে সখিপুর থানা পুলিশ। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের বাবার দাবী প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে তার ছেলেক কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের বাবা মোস্তফা দেওয়ান, সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন ডিএম খালী ইউনিয়নের চরচান্দা দেওয়ানকান্দি গ্রামের মোস্তফা দেওয়ান ও তারই চাচাতো ভাই মোয়াজ্জেম দেওয়ানগংদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিস দরবার হলেও কোন সুরাহা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মোয়াজ্জেম দেওয়ান বিরোধীদের জমিতে ছাগল চরাতে যায়। এ সময় মোস্তফা দেওয়ানের ছেলে কৃষক নুর আলম দেওয়ানের সঙ্গে মোয়াজ্জেন দেওয়ান, মানিক দেওয়ান ও মোশারফ দেওয়ানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে নুর আলম দেওয়ান, মোস্তফা দেওয়ান, আসাদ দেওয়ান, নুর মোহাম্মদ দেওয়ান, শাহ আলম দেওয়ান, হনুফা বেগম, তানিয়া বেগম ও অপর পক্ষের মোয়াজ্জেম দেওয়ান, মানিক দেওয়ান, আহসান দেওয়ান, আবু কালাম দেওয়ানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুরুতর আহত কৃষক নুর আলম দেওয়ানের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর আলম দেওয়ানকে মৃত ঘোষণা করে। বুধবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে সখিপুর থানা পুলিশ দুলাল সরদার, ইসহাক দেওয়ান, মোয়াজ্জেন দেওয়ান, আহসান দেওয়ান ও আমানুন নেছাকে আটক করেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সখিপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের বাবা আহত মোস্তফা দেওয়ান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মোস্তফা দেওয়ান, মানিক দেওয়ান ও মোশারফ দেওয়ান গংরা আমাদের জমিতে ছাগল ছেড়ে দিয়ে ফসল নস্ট করছিল। এ সময় আমার ছেলে নুর আলম বাঁধা দিলে তারা আমার ছেলের উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে আমাদের বাড়ীতে গিয়ে হামলা চালিয়ে নারী পুরুষসহ ৭/৮জনকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে এম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামের একজন কৃষক নিহত হয়েছে। আমরা সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।





আরো খবর