বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭, ১৪ আষাঢ় ১৪২৪, ৩ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ০৬:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কলহ

সালাহউদ্দিন বাবর


 

 
বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছে, স্বাধীনতার পর গত ৪৫ বছরেও এখানে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথাও কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় থাকছে না। বিশেষ করে যে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে, তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। ক্ষমতার জন্য তারা রাজনীতি করে, সেটা পাওয়াই তাদের মোক্ষম লক্ষ্য। কিন্তু কিভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করা হবে, কিভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন, কী আচরণ করণীয়- এসব কিছুর অনুশীলন তারা করেন না।
রাষ্ট্রীয় জীবনে এই প্রাতিষ্ঠানিকতার অভাবে এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেমন ঐতিহ্য নেই। এ সুযোগও কম। ঐতিহ্যের অভাবে জনগণ এমন কিছু পায় না, যা দ্বারা তারা উদ্বুদ্ধ হতে পারে। উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঐতিহ্য না থাকলেও হতাশ হওয়ার বহু বিষয় রয়েছে। নেতিবাচক কথিত ঐতিহ্যের কোনো অভাব নেই। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে, সেই রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ ও অন্তর্দলীয় কোন্দল, হাঙ্গামা ও হানাহানির ঘটনার হিসাব লেখাজোখাও নেই। বেশুমার এসব ঘটনার কারণে পারস্পরিক সম্পর্কের এতটাই অবনতি ঘটে যে, এক রাজনৈতিক সহকর্মীর হাতে অপরকে প্রাণ হারাতে হয় এবং আহত হওয়ার ঘটনা তো ঘটেই। ফলে পরস্পরের মধ্যে কথা হওয়া দূরে থাক, মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। জাতির ললাটে এই গ্লানি যত দিন থাকবে, তত দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদের সাথে যদি দ্বন্দ্বসঙ্ঘাত লেগেই থাকে, তবে ন্যূনতম বিষয়েও দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য-সংহতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেটা কোনো জাতির জন্যই কল্যাণজনক হওয়ার নয়। এসব কিছু জাতিকে বিভক্ত করবে।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে শাসক দলের মাঝে এখন অন্তর্কলহ চরম আকার ধারণ করেছে। এতে হতাহতের বহু ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে যে সঙ্কট তা একটা সীমার মধ্যেই রয়েছে। পরস্পর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যে তা বজায় থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-ছাত্রসংগঠনের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রায়ই ঘটছে। ইদানীং শাসক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সব পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খোদ আওয়ামী লীগও এ বিষয়ে চিন্তিত। এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া তথা এই হানাহানি বন্ধের জন্য উদ্যোগের কথা জানা গেছে। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ করা যায়নি। লাগাতারভাবে সারা দেশে এই সংঘর্ষ চলছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, কোনো আইনকানুন কিংবা ন্যায়নীতির তোয়াক্কা তারা করছেন না। প্রথমেই উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যার বিষয়টি। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঘটনার পর বহিষ্কৃত) ও পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরু নিজে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। অল্প কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর শাসক দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর তৃণমূলপর্যায়ে নেতাকর্মীরা সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ সময় তিন দিনে চার জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি শিমুল মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরে এক মধ্যরাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুলিবদ্ধি এবং আরো দু’জন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এর আগে নড়াইলে খুন হন নড়াইল সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষ রায়। স্ত্রী টুটুল রানীর অভিযোগ, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরোধের জেরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়। এরপর শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা, আতাউর রহমান মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে কুপিয়ে আহত করে স্বদলীয় প্রতিপক্ষ। গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় সৃষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাকে আহত করা হয়। ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। এর আগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কোন্দলের জেরে বড়মাছুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকে জখম করে দলের প্রতিপক্ষ। এ বছরের প্রথম দিনই খুলনা আওয়ামী লীগকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। তার আগের দিন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদককে লক্ষ্য করে গুলি করে তার স্বদলীয় প্রতিপক্ষ। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত হন এক পথচারী মহিলা। টাঙ্গাইলে দলীয় নেতাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কারাবন্দী রয়েছেন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান। সম্প্রতি চাঁদপুরের হাইমচরে ছাত্রদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগ নেতা।

এ দলের যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, তাতে যে হাঙ্গামা-হানাহানি হচ্ছে তার প্রধান কারণ- ক্ষমতা ও আধিপত্য। ক্ষমতাকে একচ্ছত্র অধিকার মনে করা হচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষমতার খুব কাছে। জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি, প্রশাসনে হস্তক্ষেপ, ওপরের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের খবরদারির অভাব- সব মিলিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীরা এখন নিয়ন্ত্রণহীন। এমন অপার স্বাধীনতায় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এসবই সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার জন্য হয়ে উঠেছে হুমকিস্বরূপ। লক্ষ করা গেছে যে, সংশ্লিষ্ট দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কদাচিৎ নেয়া হয়। একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে প্রকাশ, গত আট বছরে সারা দেশে নিজেদের মধ্যে হাঙ্গামায় শাসক দলের শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
এসব ঘটনার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের হানাহানিই একমাত্র কারণ নয়। ক্ষমতাসীনেরা যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সে কারণেও এসব ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কোথাও কারো তোয়াক্কা করছেন না। সর্বত্র আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয়া হচ্ছে। নানা অপকর্ম চলছে। কিন্তু ওপর থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বাধাহীনভাবে চলছে। দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাত করার ক্ষমতা ও সাহস তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যে নেই। স্বার্থের যত সঙ্ঘাত ও ক্ষমতার যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সব নিজেদের মধ্যে। ফলে নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। কোনো ন্যায়নীতি, নিয়মকানুন কিছুই তারা মানেন না। দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি কিছু পদ শূন্য হয়েছে। এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের দাবি- এসব পদে শুধু তাদের লোকদেরকেই নিয়োগ দিতে হবে। এই দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছিল। পরিশেষে এই দাবির কাছে নতি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।
এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের ভাবমর্যাদা মারাত্মক সঙ্কটে পড়েছে। এক দিকে দলের নেতাকর্মীদের হানাহানি, অপর দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ও সরকারের কর্তাদের ওপর দোষ বর্তাচ্ছে। বিগত দিনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অসফলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারা ইত্যাদি কারণে সরকার এমনিতেই সঙ্কটে রয়েছে। সাম্প্রতিক কালে নিজেদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে।
সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এখন এমন কিছুই করছে না, যাতে দেশের পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটে। অথচ ক্ষমতাসীন সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হাজারো অন্যায় করছে। তারপরও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নীরব রয়েছে। সরকার বিরোধী দলকে সভা-সমিতি করার গণতান্ত্রিক অধিকারও দিচ্ছে না। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা চলছে। এরপরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে বিরোধী দল ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। ২০১৬ পর্যন্ত সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। প্রবাসীরা দেশে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে থাকে, তাতে ঘাটতি এসেছে। বৈদেশিক বাণিজ্য তথা রফতানি বাণিজ্যেও মন্দা নেমেছে। পোশাক শিল্পের রফতানি কমছে। দেশের সরকারি ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকে অব্যবস্থা চলছে। উন্নয়নের ধারার গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির হঠাৎ অবনতি ঘটায় সরকার অনেকটা বিব্রত। এরপর দলের ভেতর হাঙ্গামা-হানাহানি সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে।
মাত্র কিছু দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পরিষদের নির্বাচন। পরোক্ষ ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের। জেলা পরিষদে এর আগে আর কখনো নির্বাচন হয়নি। মনোনীত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হচ্ছে। প্রার্থী ও ভোটাররা একই দলের হলেও নির্বাচনে হাঙ্গামা হয়েছে। টাকার ছড়াছড়ি ছিল। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। আহতও অনেক।
আওয়ামী লীগের অন্তর্কলহের একটি কারণ হচ্ছে, দেশে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি চলছে। সর্বত্র টাকাপয়সা চালাচালি হচ্ছে। শাসক দলের নেতাকর্মীরা টাকাকড়ি হাতিয়ে নেয়ার জন্য এখন মরিয়া। বিভিন্ন স্থানে পূর্তকাজ চলছে। নিজেরা ঠিকাদারির ব্যবসায়ী না হলে হাঙ্গামা করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ঠিকাদারি নেয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে হলেও নিজেরা টেন্ডার দাখিল করে তা পেয়ে যায়। এই টেন্ডারবাজি নিয়েও দলের নেতাকর্মীরা হামলা প্রতি-হামলা চালাচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারকে বহু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে যদি কোনো দুর্বলতা দেখা দেয়, তার দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হয়। আর তাতে জনগণ হতাশ হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। এই দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দেয়া সরকারের দায়িত্ব পালনের একটি বড় মাপকাঠি। উগ্রবাদ ছিল সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল। ফলে তা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। উগ্রবাদ বস্তুত একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এখনো এই সমস্যার ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়া যায়নি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি কিছু হলেও। এখন আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে আছে খোদ সরকারি দল। তারা নিজেরা বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে জড়িয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে। ক্ষমতা সরকারি দলের লোকদের এতটা বেপরোয়া করে তুলেছে যে, এর অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে রংপুরের মিঠাপুকুরে এক স্কুলশিক্ষককে প্রহার করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। এমন ঘটনা সারা দেশেই ঘটছে। অনেকটা সংক্রামক ব্যাধির মতো।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর