শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭, ৪ ভাদ্র ১৪২৪, ২৬ জিলকদ, ১৪৩৮ | ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ০৬:১১:০৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

যুক্তরাষ্ট্র-উ.কোরিয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ববাসী!

 

ওয়াশিংটন: একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ শুরুর পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার, অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, তাদের ধৈর্য্যের বাঁধ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, ফলে যে কোনো সময় উত্তর কোরিয়াকে সমুচিত জবাব দেয়ার পালা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তির পরীক্ষা না নিতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যান সাং রিয়ল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে এমন কোনো আভাস পেলেই উত্তর কোরিয়া নিজেই পরমাণু হামলা চালাবে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য শুধু তৈরি থাকার নির্দেশ দেননি, যত তাড়তাড়ি সম্ভব অত্যাধুনিক যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করতেও পরামর্শ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় বিশ্বে আরেকটি যুদ্ধ শুরুর দিনক্ষণ ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সময়ের সঙ্গে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে রণপ্রযুক্তি। আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও মহাকাশ বিজ্ঞান। পাল্টে যাওয়া রণক্ষেত্রে সাফল্য পেতে হলে সড়গড় হতে হবে নানান খুঁটিনাটি বিষয়ে। সদ্যগঠিত ৮৪টি সেনা ইউনিটের প্রধানদের সে ব্যাপারে সচেতন হতে মঙ্গলবার নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, যিনি প্রায় ৪৩ কোটি সৈন্য বিশিষ্ট পিপল্‌স লিবারেশন আর্মির প্রধানও বটে। অত্যাধুনিক যুদ্ধরীতির সঙ্গে পরিচিত হতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণের উপরও জোর দিয়েছেন জিনপিং। মনে করা হচ্ছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় শক্তিশালী রাডার বিশিষ্ট মার্কিন থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স) মিসাইলের মোকাবিলা করতেই চীনের এই উদ্যোগ। জানা গিয়েছে, আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি থাড মিসাইলের রাডার প্রায় সমগ্র চিনের উপর নজরদারি করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চিন সাগরে ভারত ও জাপানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে চাপে রাখতেও আধুনিক যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে চীন। প্রশাসনিক সূত্রে কিছু জানানো না হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, বিশ্বের বৃহত্তম সেনা বাহিনীর বহর কমাতে উদ্যোগী হয়েছে বেজিং। জানা গিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ সৈন্যকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর পর বাহিনীর ভিতর থেকেই প্রচুর ঝাড়াই-বাছাইয়ের ফলে তৈরি করা হয়েছে ৮৪টি বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল আকারের সেনা ইউনিট। গত ডিসেম্বর মাসে এক বৈঠকেও সেনা বাহিনীর পরিমাপ কমানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। তার দাবি, তুলনায় ছোট বহরের ফৌজ যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর হবে। সেই বাহিনীকে অত্যাধুনিক রণরীতির পাঠ দিয়ে এবার অপরাজেয় করাই বেজিংয়ের লক্ষ্য। এদিকে রবিবারই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনি রবিবার দফায় দফায় সামরিক বাহিনীর নানা ধরনের প্যারেড প্রদর্শনীর মাধ্যমে জানান দেয়ার চেষ্টা চলেছে যে তারাও হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। বেইজিং থেকে বিবিসির সংবাদদাতা স্টিফেন ম্যকডনাল বলেছেন মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়ার অবস্থানে বিশেষভাবে চীন হতাশ বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বিশ্বে আরেকটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, যুদ্ধের এই রণপ্রস্তুতিতে পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধ লেগে বিশ্ব পরিস্থিতি হবে খুবই ভয়াবহ। যে ধরণের ক্ষতি হবে তা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই মার্কিন প্রশাসনের চরিত্রের কুৎসিত রূপ-বর্বরতা সম্ভবত প্রথমবার স্পষ্টরূপে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। লক্ষ লক্ষ জাপানির জীবন ও সম্পদ নিয়ে সেদিন যে ছেলেখেলা করেছিল তারা তারপর থেকেই অন্যের সর্বনাশের বিনিময়ে নিজের দেশের অস্বাভাবিক ধনতান্ত্রিক স্বার্থের খাতিরে দেশে দেশে সে গায়ের জোর প্রয়োগ করে চরম অসভ্যতা প্রকাশ করে এসেছে। পূর্ব এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য ইউরোপ ও আফ্রিকার অসংখ্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সে তার নোংরা নাক গলিয়ে সেখানকার জনজীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। এভাবেই সে তার পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের যথেষ্ট প্রয়োগ করে হাজার হাজার শিশু, বৃদ্ধসহ লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, অনেককেই চিরপঙ্গু করেছে, স্বাভাবিক জীবনধারাকে বিধ্বস্ত করেছে। নৈতিকতার কোনও প্রশ্ন তার বিকৃত বাসনা তৃপ্ত করতে তাকে অসভ্য আচরণে বাধা দিতে পারেনি। ১৯৬৩ সালে কেনেডি প্রশাসনের উপদেষ্টা ডিন অ্যাচেসন ঠিকই বলেছিলেন, আমেরিকার অবস্থান, সমান ও প্রভুত্বের প্রতি যে কোনও প্রত্যাখানের মোকাবিলার প্রশ্নে আমাদের কাছে নৈতিকতার কোনও মূল্য নেই। সারা বিশ্বের উপর প্রভুত্ব স্থাপন করার কথাটাই আসলে তার কাছে মূল প্রশ্ন। এ ব্যাপারে সামান্য বাধা তাকে হিংস্র করে তুলে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর