বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২৯ জিলহাজ, ১৪৩৮ | ০৩:২২ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:৩৬:১১ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সু চি’কে ট্রুডোর ফোন

মায়ানমারে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের দমন-পীড়নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের খরবে নিজের উদ্বেগ জানিয়ে বুধবার ট্রুডো সু চিকে ফোন দেন। ২০০৭ সালে সু চিকে কানাডার দেয়া সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়। দুই নেতার ফোনালাপ সম্পর্কে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়, ট্রুডো বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা ও সহিংসতা দ্রুত অবসানের জন্য মায়ানমারের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে রাখাইনে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা দলগুলোকে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে সু চির প্রতি আহ্বান জানান। একজন ‘নৈতিক ও রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবে সু চি'র ভূমিকার ‘বিশেষ গুরুত্ব’ রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও অধিকারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে। মায়ানমারে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়তে কানাডা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রুডো তার টুইটারে লিখেছেন, ‘মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যাপারে কানাডার গভীর উদ্বেগ জানাতে আমি আজ (বুধবার) অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলেছি।’ মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গ যোগ দেয় দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন। মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তারা রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর