বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭, ১৪ আষাঢ় ১৪২৪, ৩ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭ ০১:২০:৩৫ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

আমি আসল হিন্দু, বিজেপি হিন্দুত্বের কলঙ্ক: মমতা

ভুবনেশ্বর: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি আসল হিন্দু, বিজেপি হিন্দুত্বের কলঙ্ক’।

বুধবার পুরীর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই তার জগন্নাথ দর্শন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব দেন মমতা।

তিনি বলেন, ‘আমিও হিন্দু। কিন্তু আমি এমন হিন্দু নই যে হিন্দু ধর্মকে কলঙ্কিত করে। আমি হিন্দুদের ভালবাসি।’


পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে মমতা বলেন, ‘বাংলার সবাই জগন্নাথদেবের দর্শনে আসেন। আমার পরিবারের লোকেরাও সারা বছরে অন্তত ছ’বার পুরীতে আসেন। আমাদের বাড়িতেও পুজা হয়। এখানকার দ্বৈতাপতি গিয়ে আমাদের বাড়িতে পুজো করে আসেন। জগন্নাথ মন্দির হোক বা কালীঘাট বা দক্ষিণেশ্বর মন্দির বা বেলুড় মঠ হোক, আমার সঙ্গে এর বরাবরের সম্পর্ক।’

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুবনেশ্বরে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুবনেশ্বরে নেমে অসুস্থ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অ্যাপোলো হাসপাতালে নেত্রীকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পরেন সুদীপ বন্দ্যোপধ্যায়। তবে ন্যায্য বিচার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে ভুবনেশ্বরে পৌঁছনোর অনেক আগে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্দিরে পুজো দেয়া নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘গোমাংস ভক্ষণকারী’ দাবি করেন জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সোমনাথ খুঁটিয়া। আর সেই কারণেই মমতাকে মন্দিরে পুজো দেয়ায় আপত্তি তোলেন সোমনাথ খুঁটিয়াসহ বেশ কয়েকজন সেবায়েত।

যদিও, জগন্নাথ মন্দিরের মূল পুরোহিত জানিয়েছেন, উড়িষ্যা সরকারের অতিথি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যাতে পুজো দিতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

পাশাপাশি মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যেতেই পারেন।

আর বুধবার পুরী পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমি আসল হিন্দু’। ‘বিজেপি হিন্দুত্বের কলঙ্ক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিতর্ক মাথা চাড়া দিতেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমি হিন্দু‍ বলে চিৎকার করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পুরীর মন্দির শুধু হিন্দুদের তীর্থস্থান। জগন্নাথ হিন্দুদের দেবতা। তাই হিন্দু ছাড়া মন্দিরে কারো প্রবেশাধিকার নেই। গত কয়েক বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন আচরণ তার হিন্দু ধর্মের প্রতি আস্থা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তাকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি যে হিন্দু তা প্রমাণ করতে হবে তাকেই।’

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর