শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭, ৬ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৬ শাওয়াল, ১৪৩৮ | ০২:৪৭ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭ ০৫:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

 

 

শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার ৬৩নং বিনোদপুর ঢালীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসার মিলনের বিরুদ্ধে ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির শিকার বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির চার এবং ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ মিছিল করে। স্থানীয়, অভিভাক ও হয়রানির শিকার ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিনোদপুর ঢালীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসার টিফিনের পরে নিরিবিলি সময়ে ছাত্রীদের একাকী তার রুমে ডেকে নিতেন। এ সময় বই দাগানো ও পড়া দেখানোর ছলে ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন। এ বিষয়ে কাউকে বললে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেন তিনি। ছাত্রীরা প্রথম দিকে বিষয়টি ভয়ে চেপে গেলেও একপর্যায়ে অভিভাবকদের জানায়। পরে গত সোমবার অভিভাবকরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগ তদন্তে গতকাল দুপুরে স্কুলে যান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আলম। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে জড়ো হন এবং প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক কাওসার তার নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। উত্তেজিত এলাকাবাসী এ সময় প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যৌন হয়রানির শিকার ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী জানান, ১০/১২ দিন আগে টিফিনের সময় বই দাগানোর কথা বলে প্রধান শিক্ষক তাকে লাইব্রেরিতে ডেকে নেন। এ সময় সেখানে থাকা তার এক সহপাঠীকে (এই ছাত্রীও যৌন হয়রানির শিকার) তিনি বিদায় করে দেন। পরে তিনি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতে থাকেন এবং পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার কথা বলেন। এ সময় সে চলে আসার জন্য জোরাজুরি করলে প্রধান শিক্ষক অনেক নোংরা কথা বলেন এবং এসব কথা কাউকে বললে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেন। স্থানীয় ওই ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষক একজন বিকৃত রুচির মানুষ। আর কোনো শিশু যাতে এই শিক্ষক রূপী পশুর হাতে নিগৃহীত না হয় এজন্য পরিবারের মানসম্মান বাদ দিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসার বলেন, এগুলো মিথ্যা অভিযোগ। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এসব করছে। সদর উপজেলা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আলম বলেন, অভিযোগ তদন্তে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। ছাত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছি। আগের ৫ জনের পাশাপাশি আরো ৬ ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর