সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২ সফর, ১৪৩৯ | ০৬:১০ পূর্বাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
শনিবার, ১১ মার্চ ২০১৭ ০৭:১৮:৩৬ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মোনালিসার হাসির রহস্য উন্মোচন

লেওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা নিয়ে কয়েক শতাব্দী ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিতর্ক চলছে। মোনালিসার হাসিকে নিয়মিতভাবেই রহস্যজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এবার গবেষকেরা বলছেন, মোনালিসার এই হাসি রহস্যজনক নয়। এই হাসিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘সুখ’ অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে।
গবেষকেরা বলছেন, ব্যতিক্রম একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় শতভাগ লোকই মোনালিসার ওই অভিব্যক্তিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘খুশি’র অভিব্যক্তি বলে বর্ণনা করেছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো সায়েন্টিস্ট জুয়েরগেন কর্নমিইর বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিস্মিত।’ মানুষের মুখের অভিব্যক্তির মতো চাক্ষুষ ইঙ্গিত বিচারের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে এমন নিয়ামক নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় কর্নমিইরসহ বিজ্ঞানীদের একটি দল বিখ্যাত এই চিত্রকর্মটি ব্যবহার করেন।
মোনালিসাকে প্রায়ই হেঁয়ালি মানসিক অবস্থার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই চিত্রটি বেশির ভাগ লোকের কাছে প্রথমে ‘মিষ্টি হাসি’ বলে প্রতীয়মান হয়। তবে কেবল একটু বেশি সময় ধরে দেখলে ‘অখুশি’ বা ‘বিদ্রূপাত্মক হাসি’ বলে মনে হয়।
গবেষকেরা ভিঞ্চির ষোড়শ শতাব্দীর শুরুর দিকের সেরা এই চিত্রকর্মটির একটি সাদা-কালো কপির মডেলের মুখের কোনার অংশটি ওপর-নিচ করে রদবদল করেন। এভাবে তাঁরা আটটি ছবি তৈরি করেন। ওই রদবদলের করা চারটি ছবিতে ক্রমান্বয়ে ‘খুশি’ অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে এবং চারটি ছবি ক্রমান্বয়ে ‘দুঃখ’ অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে। এরপর ওই আটটি ছবি এবং মূল ছবিটি গবেষণায় অংশ নেওয়া ১২ জনকে আধা ঘণ্টা ধরে দেখানো হয়।
কর্নমিইর বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মূল কপির অভিব্যক্তি সবচেয়ে রহস্যময় বলে বিবেচিত হবে।’ এর পরিবর্তে ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ‘আমরা দেখতে পেলাম মূল কপিটি অভিব্যক্তি সুখের বলে বিবেচিত হয়েছে।’
পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ে মোনালিসার রদবদল করা ছবির মধ্যে দুঃখের অভিব্যক্তির আটটি সংস্করণ ও মূল সংস্করণটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তদের দেখানো হয়। এই পরীক্ষায়ও মূল কপিটির অভিব্যক্তি সুখের বলে বর্ণনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

গবেষকেরা বলেন, এই ফল এটা নিশ্চিত করেছে যে ‘আমাদের মস্তিষ্কে সুখ ও দুঃখের অভিব্যক্তি নির্ণয়ে পরম কোনো মানদণ্ড নেই।..এটা অনেকখানি নির্ভর করে প্রাসাঙ্গিকতার ওপর।’ 
কর্নমিইর বলেন, ‘আমাদের মস্তিষ্ক খুব, খুবই দ্রুত পুরো বিষয়টি স্ক্যান করে ফেলে। আমরা সামগ্রিকভাবে দেখি এবং আমরা আমাদের অনুমান তৈরি করি আগের ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।’ তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া মানসিক রোগের গবেষণা খুবই কার্যকরী বলে তাঁরা মনে করছেন।

আরেকটি মজার আবিষ্কার হলো, মানুষ মোনালিসার সুখের অভিব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করেছেন দুঃখের অভিব্যক্তির তুলনায়। কর্নমিইর বলেন, এতে এটাই প্রমাণিত হয় যে ‘মানুষের মধ্যে সুখের প্রতি অগ্রাধিকারমূলক মনোভাব রয়েছে’।
গবেষক দলটি মনে করেন, তাঁদের কাজ শেষ পর্যন্ত শতাব্দী পুরোনো প্রশ্নের মীমাংসা করেছে। কর্নমিইর বলেন, অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেখানে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে সুখ ও দুঃখের অনুভূতিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

আরো খবর