শনিবার, ২৪ জুন ২০১৭, ১০ আষাঢ় ১৪২৪, ২৯ রমজান, ১৪৩৮ | ১০:২৭ পূর্বাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ০২:৫২:১৭ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সনুর বাড়ি থেকে ৬০০ মিটার দূরের মসজিদে মাইকই নেই!

ভারতীয় গায়ক সোনু নিগম দাবি করেছেন, সকালের আজানের শব্দে তার ঘুম ভাঙে। কিন্তু তার বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার। তাছাড়া আজান দেয়ার জন্য সে মসজিদে কোনো মাইকই নেই! কয়েকজন সাংবাদিক বুধবার ফজরের আজানের সময় এ গায়কের ফ্লাটের সামনে জড়ো হন। কিন্তু তারা নাকি আজানের শব্দই শুনতে পাননি। বুধবার বিবিসির সাংবাদিক ভোর ৫টা নাগাদ সনুর বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। তার আগেই সেখানে অন্য সাংবাদিকরা অপেক্ষায় ছিলেন। ওই সময় সেখানে অন্ধকার ছিল। সাধারণভাবে ব্যস্ত থাকা মুম্বাইয়ের সড়ক সেসময় শুনশান হয়ে ছিল। খবর বিবিসি হিন্দি। সাংবাদিকরা দেখেন সনু নিগমের বাড়ির আলো সেসময় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তার বাড়ির বাইরে পুলিশ গাড়ি মোতায়েন ছিল। দু’জন পুলিশকর্মী গাড়ির বাইরে টহল দিচ্ছিলেন। সব সাংবাদিক শান্তিপূর্ণভাবে অপেক্ষায় ছিলেন, কোথা থেকে কোনো আজানের শব্দ ভেসে আসে কী না তা জানার জন্য। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে কেউই কোনো আজানের শব্দ শুনতে পাননি! ধীর ধীরে সমস্ত সাংবাদিক সেখান থেকে চলে গেলেও বিবিসির সাংবাদিক সেখানে আরো কমপক্ষে আধ ঘণ্টা ধরে আজান শোনার আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তিনি কেবল সেখান থেকে যাতায়াত করা কিছু যানবাহনের শব্দই শুনতে পেয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই এলাকায় তিনটি মসজিদ আছে কিন্তু সবগুলোই মসজিদ সনু নিগমের বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে। তার বাসা থেকে কমপক্ষে আধা কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসা তালিমুল কুরআন ট্রাস্ট মসজিদ আছে ওই মসজিদের আজান ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে হয়। মসজিদের ট্রাস্টি মেহবুব খান বলেন, ‘সনু নিগম ২/৪ বছর আগে থেকে এখানে বাস শুরু করেছেন। কিন্তু আমরা এখানে ৩০/৩৫ বছর ধরে আছি। এর আগে কেউ আজান নিয়ে সমস্যায় পড়েননি। সনু নিগম যেখানে থাকেন সেখানে তো আজানের শব্দ পৌঁছায়ও না।’ সনু নিগমের মন্তব্যে ব্যাখ্যায় মেহবুব খান বলেন, ‘লোকেরা আমাদের বলে আজানে আমরা উপকৃত হই। মানুষজন সময়মত উঠে কাজকর্মে যেতে পারে। কিন্তু সনু নিগম স্রেফ প্রচার পাওয়ার জন্য পরিবেশ খারাপ করছেন।’ সনু নিগমের বাড়ির ডানদিকে মাদ্রাসাতুল সালাহাই ট্রাস্টে কাজ করা হাবিব বলেন, তাদের মসজিদে লাউডস্পিকারই ব্যবহার করা হয় না। মাদ্রাসা এ নাব্বেয়াহর ট্রাস্টি গুলাম জি বলেন, ‘সনু নিগম প্রথমে কেবল এক হাজার টাকার জন্য জাগরণে রাতভর গান করতেন। উনি ভুলে গেছেন যে কত লোকের তিনি কষ্ট দিয়েছেন। কেবল প্রচার পাওয়ার জন্যই উনি এসব করছেন। এখন সব নয়া নয়া গায়ক এসে যাওয়ায় তিনি এখন গাইতে পারছেন না।’ সনু নিগমের বাড়ির কাছে ‘ত্রিশূল’ নামক ভবনে বাসকারী লতা সচদেব বলেন, গোটা দিনে আজানই শুনতে পাওয়া যায় না। অন্য ভবনের মহিলা বাসিন্দা কিরণ ভাসান বলেন, আজ পর্যন্ত তিনি সকালের (ফজরের) আজান শুনতে পাননি। গায়ক মীকা সিং বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, লাউডস্পিকার পরিবর্তনের বদলে আপনার নিজের বাসা বদল করে অন্য কোনো জায়গায় চলে যাওয়া উচিত। গুরুদোয়ারা, মন্দির, মসজিদ এবং গির্জা কেবল প্রার্থনা করার স্থান নয়। মানুষের সাহায্য করারও মাধ্যম। যে জিনিস বহু বছর ধরে চলে আসছে তা আচমকা বন্ধ করে দেয়া ভালো কথা নয়। কেউ তো আপনাকে মদ পান করতে বা পার্টি দিতে বারণ করছে না। আমরা দুবাইতে যখন শো করতে যাই তখন এ নিয়ে আপত্তি ওঠে না, তাহলে ভারতে আপত্তি কেন?’ এদিকে, আজান সংক্রান্ত ইস্যুতে ভারতের পানিপথের একটি আদালত সনু নিগমের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪, ২৯৫, ২৯৫ এ, ২৯৬, ৫০০ এবং ৫০১ ধরায় মামলার নির্দেশ দিয়েছেন। আজান ইস্যুতে আইনজীবী মোমিন মালিক পানিপথের সিজেএম আদালতে বুধবার আবেদন জানালে ওই নির্দেশ দেয়া হয়। আগামী ২ মে ওই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর