বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, ২৪ জিলকদ, ১৪৩৮ | ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন (GMT)
ব্রেকিং নিউজ :
X
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০১৬ ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

একজন দর্শকের চোখে মেলবোর্নের আয়নাবাজি

সংগৃহিত

২ ঘন্টা ২৪ মিনিট কি দেখলাম? দেখলাম ঢাকা; দেখলাম বুড়িগঙ্গা,তিনশো ফিট রাস্তা, ফ্লাইওভার, আলু পুরির দোকান, ধুলায় ধূসরিত আকাশ, ফেরিয়ালা, বিলবোর্ড, পোস্টার। দু'চোখ ভরে দেখলাম, দু চোখ ভিজিয়ে দেখলাম। গঙ্গা বুড়ির চিরচেনা শহরটাকে এতো অপরূপে আর কেউ কি আমাদের আগে দেখাতে পেরেছেন?

বলছিলাম #আয়নাবাজির কথা। মেলবোর্নে আজকে (২৬শে নভেম্বর রোজ শনিবার) আয়নাবাজির প্রথম শো ছিল। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল সিনেমা হল। একেবারে মন্ত্রমুগ্ধের মতন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বসেছিলেন সবাই। চলচিত্রটি নিয়ে অনেক রিভিউ পড়া ছিল। সেটা ইতিবাচক নেতিবাচক দুটোই। ইতিমধ্যে সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনাও থিতিয়ে এসেছে বেশ। তাই সব মিলিয়ে খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে হলে যাইনি। কিন্তু যা দেখলাম তা অসাধারন। বলা যায় জাদুকরের জাদু দেখে এলাম। জাদুকর এখানে কে ছিলেন না; সিনেমা শুরুর মুহূর্তের শিশু শিল্পী থেকে শুরু করে অমিতাভ রেজা পর্যন্ত সবাই একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কাহিনীর গাথুনী, রুপ্সজ্জা,পটভুমি, স্থান-কাল-পাত্র নির্ধারণ, ছোট বড় সকল চরিত্রের নিজস্বতা, এবং অসংখ্য পার্শ্ব চরিত্র সিনেমাটিকে করেছে জীবন্ত। মনে হচ্ছিলো না কল্প-কাহিনী দেখছি বরং মনে হচ্ছিল আমি নিজে অদৃশ্য হয়ে সিনেমাতেই ঘুরপাক খাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এমন একটা পটভুমিতে এমন একটি গল্পের দৃশ্যায়ন খুব সহজ হবার কথা নয়। আর এমন অন্য ভাবে বাংলাদেশের কোন কাহিনীকার চিন্তা করেছেন এবং পরিচালক ও সংলাপকার তার সফল বাস্তবায়ন করেছেন এমন মিথস্ক্রিয়া সত্যিই দুর্লভ।

আয়নাবাজি সিনেমার আসল প্রসঙ্গে আসি এবার। আয়নাবাজি মুলত আয়নার গল্প। আজকের পর থেকে চঞ্চলকে আয়না ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে আমার বেশ অস্বস্তিই লাগবে। একটা সিনেমায় একা প্রায় ৭টি এতো ভিন্ন চরিত্র তিনি কিভাবে করেছেন জানিনা। এবং একটি চরিত্র থেকে আরেকটি চরিত্র বদল এতোটা মসৃণ ছিল যে এক মুহূর্তের জন্যে তাকে বেখাপ্পা লাগে নি। সিনেমা থেকে বের হয়ে শুধু মনে হলো চঞ্চল আসলে এই গ্রহের কেউ নন। বর্তমান সময়ের যে কোন অভিনেতাকে টেক্কা দেবার মতন অভিনয়গুন তার আছে। অভিনেতা হতে হলে যে নায়ক হতে হয় না, খুব ক্যারিশ্মাটিক চেহারা, উচ্চতা বা ডিজাইনার কাপড় পরা লাগে না শুধু লাগে অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তার উদাহরন চঞ্চল।এমন একটা চরিত্র নেই যেখানে মনে হয়েছে এখানে অন্য কেউ হলে ভালো হতো; সেটা রেপিস্ট হোক, টেক অবসেসড ইয়াং কিড হোক, রাজনীতিবিদ কিংবা তার অনুরুপ হোক, হাবিলদার হোক অথবা আয়না নিজে (আমি মনে হয় ছোট খাটো অনেক খুটি নাটি বাদ দিলাম!)।

আয়নার বিপরীতে হৃদি একদম অনন্য ছিলেন। এই চরিত্রটি না থাকলে হয়তো সিনেমাটি অতি নাটকীয় হয়ে যেত। একবিন্দু 'এক্সপোজ' না করে শুধু সংলাপ আর অভিব্যাক্তির যুগলবন্দিতে কী মিষ্টি প্রেমই না দেখলাম এই দু' ঘন্টা। ভালবাসতে নায়ক নায়িকা হতে হয় না, অসম প্রেম শুধু বয়স-লিংগ আর 'চৌধুরী সাহেব' ডায়লগে আটকে রাখা যায় না সেটা আয়না আর হৃদির গল্পে শিহরিত হল আরেকবার।

এই অংশটা শুধুই সমালোচনার খাতিরে বলা। ঠিক যেন খড়ের গাদায় সুই খুজতে যাবার মতন। দ্বিতীয়বার জেল থেকে বের হবার পর আয়নার মাথায় চুল ছিল না একটাও। ঠিক পরের সিনে গোসলের সময় মাথা ভর্তি এতো চুল দেখে একটু অস্বস্তি লাগছিল।

সবমিলিয়ে মুভি রেটিং ৫/৫। অমিতাভের আরো অনেক যাদু দেখতে চাই। খুব চাইবো আমাদের দেশের পরিচালকেরা চঞ্চলের মতন অভিনেতাকে নিজেকে ছাড়িয়ে দেবার সুযোগ করে দেবেন। এমন গল্প, পরিচালন আর অভিনয়ের সংমিশ্রণ হলে একটা অস্কার তো আশাই করা যায়!

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর