শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪, ২ সাবান, ১৪৩৮ | ০৯:২৬ অপরাহ্ন (GMT)
শিরোনাম :
  • নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে আ.লীগ: কাদের
  • ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যাবে বিএনপি
সোমবার, ১৩ মার্চ ২০১৭ ০২:১১:১৪ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

গ্লেনফিল্ডে হয়ে গেল লোকগানের আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশমাতৃকার টানে দেশপ্রেমের গান দিয়ে শুরু। সেই গান গিয়ে ঠেকলো বাংলার মাটি ও মানুষের গানে। সিডনির গ্লেনফিল্ডে দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসেও আগ্রহী দর্শক উপভোগ করলেন মাটি ও মানুষের প্রাণের সুর । এক মিষ্টি বাউল সন্ধ্যা সবাইকে বাধ্য করলো পুরোনো দিনের গ্রাম বাংলায় ফিরে যেতে। কত স্মৃতি , কত উপলব্ধি। কারো মনে পড়লো ছেলেবেলা, কারো দাদী নানীর মুখের জনপ্রিয় গানটি , কারো প্রথম যৌবনের উড়ু উড়ু আবহ ।
এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে লোকগীতি শিল্পী ফারিয়া আহমেদের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় বাংলার বাউল গানের আসরটির জন্য। আসর হয় গত ১২ মার্চ। ' ভবের হাট' নামের সেই গানের আসরে গাইলেন নবীন- প্রবীন বেশ কয়েকজন শিল্পী । গাইলেন ফারিয়া আহমেদ নিজেও।
একে একে পরিবেশিত হলো, কলকল ছলছল , আমার হাড় কালা করলাম রে,আমার সোনার ময়না পাখি, আমার বন্ধু দয়াময়,ওকি গাড়িয়াল ভাই , মিলন হবে কত দিনে,সোনাবন্ধে তুই আমারে ,বিনোদিনী গো ,করিমনা কাম ছাড়েনা এমন অপূর্ব সব গান। গানের আবহে আর অভিজ্ঞ তবলাবাদক ওস্তাদ রাশেদুল কবির সুইটি  এর আঙুলের ছোঁয়ায় আসর হয়ে উঠেছিল জমজমাট। মনে হচ্ছিলো চিরায়ত বাংলার একগুচ্ছ বাউল যেন উঠে এসেছে এই প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে।
অনুষ্ঠান হয়েছে গানের দল 'স্বরলীপির' ব্যানারে । সার্বিক তত্বাবধায়নে ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারিয়া আহমেদ অনুষ্ঠানের শুরুতেই এর উদ্দেশ্য খোলাসা করেন দর্শকদের কাছে। তিনি বলেন,'' অনেক অপ্রচলিত বাউল গান রয়েছে যা হারিয়ে যেতে বসেছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই অপ্রচলিত গানগুলি নতুন করে শ্রোতার সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।'' এ  প্রতিবেদককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,'' মাটির গানের চাহিদা সব জায়গায় রয়েছে। শুধু দেশে নয় ,'' এই প্রবাসেও এ ধরনের গানের একই রকম দর্শক দেখেছি। তিনি বলেন, কিছু বাদ্যযন্ত্রের ব্যাবহার এখানে করা সম্ভব হয়না। তবুও আমরা চেষ্টা করি মাটি ও মানুষের আবহটি দিতে। ''

সামনের দিনগুলিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আরো উপহার দেয়ার জন্য তিনি ও তার সংগঠন স্বরলিপি চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি।
কন্ঠশিল্পী সীমা আহেমেদ , রুহুল আমীন সহ বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটির অসাধারন আবহ তৈরি করেন আবৃত্তিকার ও উপস্থাপক সাইফুর রহমান অপু। তার অনবদ্য উপস্থাপনা অনুষ্ঠানস্থলকে গ্রামবাংলার রাতের গানের আসরে পরিনত করেছিলো।
 
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়। নতুন নতুন গান নিয়ে জমতে থাকে আসর । সঙ্গিতপ্রিয় দর্শক একের পর এক উপভোগ করেন তাদের প্রানের গানগুলি।

শেষ তো একসময় হতেই হয়। শেষ যখন হয় , তখনও দর্শক -শ্রোতার চোখে বাংলার শান্ত নদী, নদীর কূল , বৈঠা হাতে মাঝি , আর কানে বাজতে থাকে শেষ গানটির সুর, নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে ।  ছল ছলাইয়া চলুক রে নাও মাঝ দইরা দিয়া ।

CLOSE[X]CLOSE

আরো খবর